ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। এবারে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শঙ্কা দেখছি না।’ মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। ফলে এবারের নির্বাচন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, অতীতে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে উদ্বেগ ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে—শেষ পর্যন্ত নির্বাচন সঠিকভাবে হবে কি না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার পর সবাই সংযত হয়েছে এবং সামগ্রিক পরিবেশকে ইতিবাচক বলেই মনে হচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে—এমন প্রত্যাশা তাদের রয়েছে। রাষ্ট্র ও সমাজের সব ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক চর্চা নতুন করে শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁর সফর ও রাজনৈতিক বার্তা বিএনপির রাজনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারবে না। মানুষের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ সচেতন এবং ভেবেচিন্তেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তাই জনগণকে তারা বারবার আহ্বান জানাচ্ছেন—নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিন, এটি আপনার অধিকার। পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দল বেঁধে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ভোটারদের অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, আল মামুন, তারিখ আদনানসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

