“শিক্ষক–অভিভাবক–শিক্ষার্থী: আমরা সবাই সফলতার সাথী” — এই স্লোগানকে সামনে রেখে সন্দ্বীপ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ নভেম্বর সোমবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সুব্রত চন্দ্র রায়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম শফিকুল আলম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র সন্দ্বীপ এডুকেশন সোসাইটির সাধারন সম্পাদক এবং সন্দ্বীপ আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সফিকুল ইসলাম, পৌরসভা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন দিদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাকের হোসেন বিপুল এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নবনিযুক্ত প্রভাষক নিঝুম খান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ বেলাল উদ্দিন, সাংবাদিক ও অভিভাবক বাদল রায় স্বাধীন, প্রভাষক রেজাউল করিমসহ শিক্ষক-অভিভাবক প্রতিনিধিবৃন্দ। বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন এবং অভিভাবক-শিক্ষকের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় বিশেষভাবে আলোচনায় আসে—অনেক ছাত্রছাত্রী নিয়মিত কলেজে না এসে আড্ডা, অনলাইনে সময় নষ্ট বা অন্যত্র বিচরণ করছে। এ বিষয়ে থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়—যেসব শিক্ষার্থী নিয়মিত কলেজে আসে না, তাদের ‘ঝুঁকিপূর্ণ/বখে যাওয়া শিক্ষার্থী’ হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হবে।এদের বিষয়ে অভিভাবকদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজন হলে থানার পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,“শিক্ষার্থীরা যদি নিয়মিত না আসে, অযথা বাইরে ঘোরাফেরা করে—তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগতভাবে কঠোর অবস্থান নেব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহলও জোরদার করা হবে।”
বিশেষ অতিথি নব্বই দশকের সাবেক তুখোর ছাত্রনেতা সফিকুল ইসলাম স্কুল এন্ড কলেজের অবকাঠামোতে ছাত্র বান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য দেড় লক্ষ টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষনা দেন। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত শিক্ষা পরিবেশ গড়ার প্রত্যয় প্রভাষক নিঝুম খান বলেন,“এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে আমরা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখব। পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের পাশ্ববর্তী পুরো এলাকা মাদক ও ইভটিজিংমুক্ত করতে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কঠোর ব্যবস্থা নেব।” অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সমাবেশটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সবাই আশা প্রকাশ করেন—এই যৌথ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল, নিয়মিত উপস্থিতি ও নৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।

