সপ্তাহের মধ্যে কোন একদিন সেবাপ্রত্যাশী স্থানীয় নাগরিকদের সমস্যা, অভিযোগ ও আপত্তি শুনতে গণশুনানি কার্যক্রম পরিচালনা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম। সপ্তাহের প্রতি বুধবার তিনি তার নিজ অফিস কক্ষে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই গণশুনানি পরিচালনা করে থাকেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার কয়েক দিনের মাথায়ই পৌর মেয়র, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর কিছুদিন পর অব্যাহতি দেওয়া হয় পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলরদের। এছাড়া উপজেলার ৯ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার না থাকায় সাধারণ মানুষের জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। যার ফলে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব পড়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র ওপর। নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ফখরুল ইসলাম প্রতি বুধবার গণশুনানির মাধ্যমে মিটছে জনদুর্ভোগ ও ভোগান্তি। সমাধান হচ্ছে পুরনো সমস্যা, জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে প্রশাসনের এমন কার্যক্রম।
এতে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নিবার্হী অফিসার ফোনে, হোয়াটসএ্যাপ, মেসেজ, ফেসবুক, মেসেঞ্জার, কিংবা সরাসরি ও লিখিতভাবে প্রতিদিন ৪০-৫০টি অভিযোগ পান। এর মধ্যে অনেক সমস্যাই তাৎক্ষণিক সমাধান কিংবা প্রতি বুধবার গণশুনানির মাধ্যমে সমাধান করা হয়। উপজেলার শত শত মানুষের সমস্যা, অভিযোগ ও আপত্তি গণশুনানিতে শুনে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করেন। তার এই গণশুনানি দিনদিন স্থানীয় নাগরিকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সীতাকুণ্ড উপজেলা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা। প্রতিদিন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে লোকজন আসেন। যেহেতু পৌর মেয়র, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ কার্যলয়ে আসছে না। সেহেতু জনসাধারণ বেশ দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যাতে মানুষের সেবা পেতে কষ্ট না হয় তাই অন্যান্য দিনের পাশাপাশি বুধবার গণশুনানী করে জনসাধারণের অভিযোগগুলো শুনে সমাধান করার চেষ্টা করি।

