চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ১৬ মাস বয়সী আতকিয়া আয়শা ও আফরোজা আফরিন (২৮) নামের মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলা সদরের কামাল ভবনের নিচ তলার শয়ন কক্ষ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ দুটি থানায় নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়।
নিহত আফরিন ওই এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। আনোয়ার চট্টগ্রামের বাশঁখালী উপজেলায় একটি অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন এবং ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলেই ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিমান করে সকালের দিকে আফরিন তার শিশুকন্যা আতকিয়াকে গোসল করানোর কথা বলে শয়ন কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘক্ষণ তাদের কোনো সাঁড়া-শব্দ না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা দরজা খুলতে চেষ্টা চালান। কিন্তু তাতে তারা সকলে ব্যর্থ হন। পরে বিষয়টি থানায় জানালে ফটিকছড়ি থানার একদল পুলিশ এসে কক্ষের দরজা ভেঙে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেন। এসময় মেয়ের লাশ নিচে এবং মায়ের লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিলো।
আফরিনের শ্বাশুর উপজেলা জামায়াতের নেতা মো. কামাল উদ্দিন জানান, ‘পুত্রবধূ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে আক্রান্ত। হয়তো সে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই এমন পথ বেছে নিতে পারেন। এছাড়া পরিবারে কারো সাথে কোনো মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব নেই।’
ভিন্নকথা বলছেন স্বজনরা। আফরিনের স্বজন আবুল বশর জানান, ‘স্বামীর সাথে অভিমানে এমন মর্মান্তিক ঘটনা হতে পারে না। মায়ের হাতে সন্তান খুন হবে এটি হয়না। তাছাড়া মানসিক ভারসাম্যহীনতার প্রশ্নটিও অবান্তর। কারণ সে বিষয়ে কোন রোগনিরূপন কাগজপত্র নেই। তিনি প্ররোচণাকে সন্দেহ করছেন।’ মায়ের সাথে সন্তানের মর্মান্তিক এমন খবরে স্তব্ধ পুরো এলাকার বাসিন্দারা। অনেকেই ঘটনাটি বর্তমান সময়ে একটি হৃদয় বিদারক ও মায়ের নাঁড়ি ছেড়া ধনের প্রতি চরম অবহেলার বহি:প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমেদ জানান, ‘মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বজনদের থানায় ডাকা হয়েছে। পরিবারে অভিযোগের আলোকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

