বাংলাদেশকে একটি শান্তির, স্থিতিশীল এবং অগ্রসরমান জনপদ হিসেবে কবুল করার জন্য মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানিয়েছেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ গাউসিয়া হক মঞ্জিলের সম্মানিত সাজ্জাদানশীন হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম. জি.আ.)। ১১ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দরবার শরীফে সুফি সম্রাট বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-র ৩৭তম বার্ষিক ওরশ শরীফে সভাপতির বিশেষ মোনাজাতে তিনি এই ফরিয়াদ করেন।
গাউসিয়া হক মনজিল কর্তৃক আয়োজিত মহান এই ব্যক্তিত্বের ওরশ শরীফ উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো ভক্ত-আশেকদের নিয়ে করা মোনাজাতে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.) বিশ্বের দিকে দিকে নির্যাতিত নিপীড়িত জুলমের শিকার মানবসন্তানদের মুক্তি কামনা করেন। মহান আল্লাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-কে মোমেনদের মাঝে বিশ্বঅলি, শাহানশাহ হিসেবে প্রকাশিত করেছেন বলে বিশেষ মোনাজাতে মন্তব্য করে সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী (ম.) বলেন, ‘দুনিয়ার ব্যস্ততাকে তুচ্ছ করে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ওরশ শরীফে হাজির হওয়া লাখো ভক্তদের পবিত্র ইচ্ছেগুলো কবুল করুন। পবিত্র এই দিনটিতে কোরআনের, মিলাদ, দরূদ, সালাম এবং ছেমা মাহফিলের মাধ্যমে হক আদায়ের চেষ্টা হয়েছে সেগুলো কবুল করুন।’ সন্তানদের সৎ নাগরিক এবং দেশের সম্পদ হিসেবে খুঁজে পাওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আওলিয়া কেরামগণের আদর্শের সমাজ, মূল্যবোধের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যুগে যুগে দ্বীন ইসলামের, মানবতার পতাকা উড্ডয়ন রাখতে আওলিয়া কেরামগণ তাদের উৎসর্গ করেছেন। তাদেরই আদর্শে আমাদের জীবন পরিচালনা এবং হালাল রুজির মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করার তৌফিক কামনা করছি।’ পবিত্র ওরশ সফল করার জন্য মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদ, শাখা কমিটি সমূহ, উপজেলা প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা মহান আল্লাহর দরবারে কবুল করার ফরিয়াদ জানান সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারি (ম.)।
এর আগে মাওলানা আনোয়ার হোসাইন এর সঞ্চালনায় সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারি (ক.) জীবনাদর্শ এবং বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. জাফর উল্লাহ, মাওলানা সৈয়দ আহমেদুল হক মাইজভাণ্ডারী, মাওলানা সাইফুল্লাহ ফারুকী প্রমুখ। মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল আলী জসীম চৌধুরী এবং শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্ট্রের সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এম জাফর এসময় উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ ও কিয়াম পরিচালনা করেছেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্য মাওলানা হাবিবুল হোসাইন। সবশেষে জিকিরে সামা পরিবেশন করেন মাইজভাণ্ডারী মরমী গোষ্ঠীর শিল্পী আবু সালেহ কাওয়াল।

