চট্টগ্রাম নগরীতে বাসে এক পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাস চালক টিপু ও হেলপার জনি দাশকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ভোরে কুয়াইশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপির) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) নোবেল চাকমা বলেন, বাসে এক নারী পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টায় করে বাস চালাক। পরে চালকের হাত থেকে বাঁচতে বাস থেকে লাফ দিয়ে পাঁচ দিন সংজ্ঞাহীন ছিলেন ওই পোশাককর্মী। সুস্থ হওয়ার পর বুধবার ওই নারী জানায়, তাকে ধর্ষণ চেষ্ট করেছেন বাস চালক। এরপর আমরা বাস চালককে শনাক্ত করি। পরে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় অভিযান চালিয়ে কুয়াইশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় ভিকটিম পোশাকশ্রমিকের মা বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
নোবেল চাকমা আরও বলেন, সকালে অভিযান চালিয়ে বাসে পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে চালকের সহকারী জনি দাশকে (১৮) সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেকে বাসটি জব্দ করা হয়। ঘটনার সময় জনি দাশ বাসটি চালাচ্ছিলেন।
এর আগে গত বুধবার পুলিশ জানিয়েছিল, গত ১৯ মে রাত ৯টার দিকে বাকলিয়া থানার রাহাত্তারপুল এলাকার সড়ক থেকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ওই পোশাককর্মীকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা চান্দগাঁও থানায় নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই সময় পোশাককর্মীর মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন। তখন কীভাবে সে ওখানে এসেছিলেন তা কেউ বলতে পারেননি। গত ২৪ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে ছিলেন এবং কথা বলতে পারছিলেন না। সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার পর গত বুধবার পুলিশ ওই পোশাককর্মীর সঙ্গে কথা বলে। সে কালুরঘাট বিসিক এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বাসা চান্দগাঁও থানা এলাকায়।
ওই পোশাককর্মী পুলিশের কাছে দাবি করেন, প্রতিদিনের মতো বাসায় ফিরতে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে তিনি অফিসের বাসে ওঠেন। বহদ্দারহাট মোড়ে এসে অন্য শ্রমিকরা বাস থেকে নেমে গেলেও পেছনের দিকে থেকে তার নামতে দেরি হয়। এই সুযোগে চালক তাকে না নামিয়ে বাসটি সামনের দিকে চালিয়ে নিয়ে যায়।
একপর্যায়ে চালক তাকে বাসের পেছনের দিকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখনই সে চালককে ঘুষি মেরে বাস থেকে লাফ দেন। এরপর হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ঘটনার সময় বাসটি চালিয়েছেন হেলপার। আর মূল চালক দরজার সামনে ছিলেন।

