সাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ কেটে গেলেও থেমে নেই চট্টগ্রামের বৃষ্টি। আজ রোববার বিকেল ৪টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ১০৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে করে নগরীর কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে চট্টগ্রামে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে আরও দুই-তিন দিন।
আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূইয়া বলেন, রোববার চারটা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ১০৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। কোথাও ভারি থেকে অতিভারি আবার কোথাও থেমে থেমে বৃষ্টি হবে। এ কারণে নগরীর নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া পাহাড় ধসেরও সম্ভাবনা আছে।
এদিকে শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির কারণে সড়কে যান চলাচল ছিল সীমিত। রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চোখে পড়েছে হাতে গোনা, আর যেগুলো চলেছে, সেগুলোর চালকরা দাবি করছেন অতিরিক্ত ভাড়া। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে অফিসমুখী মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের।
গতকাল রোববার সকাল থেকে নগরীর চন্দাগাঁও মোহরা, হালিশহর, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, কোরবানিগঞ্জ, চকবাজারের কিছু অংশ, মনসুরাবাদ, মুরাদপুর, টেক্সটাইল গেট, আগ্রাবাদের কিছু অংশ এবং কৈবল্যধাম এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব এলাকায় সড়ক ও অলিগলিতে কোথাও কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমর সমান পানি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে এসব সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, টেম্পো, রিকশা, ইজিবাইক চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
দুপুরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে পানি জমতে থাকে নিম্নাঞ্চলে। এ সময় এসব এলাকায় নিচতলার বাসাবাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে।
সরকারি চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কোনোমতে একটা বাস পেয়েছি।
বেসরকারি চাকরিজীবী আসহাব উদ্দীন বলেন, দশটায় আগ্রাবাদ এলাকায় একটা ট্রেনিং ছিল। বহদ্দারহাট থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেড় ঘণ্টার মতো লেগেছে। অথচ অন্য সময়ে আধা ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়।
বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা
অনলাইন ডেস্ক

