বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী চট্টল গৌরব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধের পবিত্র ঠিকানা এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বৌদ্ধদের মধ্যে এই চট্টগ্রাম অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বসবাস করে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ভাইদের সাথে আমি কিন্তু খুব ছোট বেলা থেকে সহাবস্থান করেছি, একসাথে বড় হয়েছি। বাংলাদেশে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে যে শান্তির বাণী, এই শান্তির বাণী বিশ্বব্যাপী বিরাজিত আছে। তিনি বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধের মৈত্রীময় শান্তির বাণী এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য। এদেশের মানুষ বিগত ১০/১৫ বছর অনেক অশান্তির সম্মূখীন হয়েছে। এত অশান্তির মধ্যে ছিল যে, সমাজ ভেঙেগেছে, রাজনীতি ভেঙেগেছে, দেশ ভেঙেগেছে ব্যবসা-বাণিজ্য, রীতিনীতি সব ভেঙে দিয়ে পুরো রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে বিগত সরকার। আর অশান্তি চাইনা বাংলাদেশে। এবার একটি সুন্দর সমাজ, সুন্দর রাষ্ট্র উপহার দিতে চাই। তিনি ১১ মে রোববার সকালে নগরীর ডিসি হিল চত্বরে সম্মিলিত বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে শান্তি শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
প্রধান অতিথি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, বাংলাদেশে কোনো সংখ্যাগরিষ্টের রাজত্ব চলবেনা। বাংলাদেশ পরিচালিত হবে প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। তিনি বলেন ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’। সুতরাং এই রাষ্ট্রে, এই সমাজে বিভক্তির আর কোনোরকম সুযোগ থাকবেনা। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজ গড়বো, রাষ্ট্র গড়বো। তিনি বলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রচার করাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য । দেশের সমস্ত অঞ্চলে বসবাসরত আমরা সবাই বাংলাদেশি। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশকে গড়তে হবে। আমাদের মধ্যে রাজনীতি ও মতের ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে সুন্দর দেশ গড়া কখনো সম্ভব হবেনা।
শান্তি শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন করতে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র , চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, এই চট্টগ্রাম সকল ধর্মের মানুষের মিলনস্থল। এই চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন ও হেলদি সিটির পাশাপাশি একটি নিরাপদ বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই শহরটি আমাদের সবার শহর। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খৃষ্টান সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থান রয়েছে। প্রত্যেকে ধর্মের মানুষ নিরাপদ নির্বিঘ্নে তাঁদের ধর্মাচরণ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধের বাণী আমাদের সকলকে হৃদয়ে ধারণ করতে হব্।ে আজকের এই মহান দিনে গৌতম বুদ্ধের ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা। আসুন, গৌতম বুদ্ধের সাম্য, মৈত্রী, করুণার ধারায় নিজেদেরকে গড়ে তুলি।
সম্মিলিত বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদ ২০২৫ এর সভাপতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (অবঃ) রিটন কুমার বড়ুয়া সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ’র উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) জনাব মোঃ আলমগীর হোসেন, জাপানি বৌদ্ধধর্মীয় সংস্থা ‘রিসসো কোসে কাই’ (আরকেকে) এর ব্রাঞ্চ মিনিষ্টার মি. মরি মাসানাবু। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, বিএনপি নেতা ইস্্রফিল খসরু, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির চেয়ারম্যান অজিত রঞ্জন বড়ুয়া, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি দানবীর মৃদুল বড়ুয়া চৌধুরী, বুদ্ধিষ্ট ফেডারেশনের সাবেক নির্বাহি সভাপতি অশোক বড়ুয়া, পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের ট্রাস্টি যুবদল নেতা রুবেল বড়ুয়া হৃদয়, অরুণ কুমার বড়ুয়া দেবু, অধ্যাপক তুষার কান্তি বড়ুয়া, প্রকৌশলী অসীম বড়ুয়া, ড. সৌমেন বড়ুয়া, যুবনেতা সপু বড়ুয়া, শিমুল বড়ুয়া, সুমন বড়ুয়া বাপ্পি, লায়ন রণি কুমার বড়ুয়া প্রমূখ।
বৌদ্ধ নেতৃবৃন্দরা বলেন- আজকে বহু বছর ধরে বিভিন্ন সরকারের সময় দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেও আমাদের কথা কেউ কর্ণপাত করেননি। গত ৯ মে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দ্বীতিয় ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমায় ছুটিসহ ১১ দাবি উত্থাপন করা হয়। সেই দাবিগুলো পূরণের মধ্যে দিয়ে বাঙালির কয়েক হাজার বছরের বৌদ্ধ ইতিহাস ও স্ংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত হবে বলে মনে করি।
এবারের বুদ্ধ পূর্ণিমায় “যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, বিশ্বশান্তি ও মানবতার জন্য সম্প্রীতি” এ প্রতিপাদ্যকে অন্তরে ধারণ করে বর্ণাঢ্য শান্তি শোভাযাত্রার র্যালিটি নগরীরর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। শোভাযাত্রায় ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই,’ অহিংসা পরম ধর্ম’ লেখা সম্বলিত বিভিন্ন ফেষ্টুন শোভাবর্ধন করে। এবছর সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রায় ৭০ টি বৌদ্ধ সংগঠন শোভাযাত্রায় নিজেদের ব্যানার ফেষ্টুন নিয়ে শান্তি শোভাযাত্রায় একাত্ত্বতা পোষণ করেন।
গৌতম বুদ্ধের মৈত্রীময় শান্তির বাণী এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য-আমীর খসরু
অনলাইন ডেস্ক

