মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল

অনলাইন ডেস্ক
- Advertisement -
Single page 1st Paragraph

আজ স্মৃতি জাগানিয়া ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার পুরো উপকূল। লাশের পরে লাশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল সর্বত্র। ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছিল বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল। বিশ্ববাসী তথা দেশের মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে সেদিন প্রত্যক্ষ করেছিল প্রকৃতির করুণ এই আঘাত।

স্বজন হারানোর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছিল চারদিকের পরিবেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এতবড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি এদেশের মানুষ এর আগে আর কখনও হয়নি। পরদিন সারা বিশ্বের মানুষ অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখেছিলেন ধ্বংসলীলা। আর্তনাদে কেঁপে উঠেছিল বিশ্ব বিবেক।

সেদিন বাংলাদেশে আঘাত হানা ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের সংখ্যা বিচারে পৃথিবীর ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল মধ্যরাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানা এ ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৫০ কিমি (১৫৫ মাইল/ঘণ্টা)। ঘূর্ণিঝড় এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট ৬ মিটার (২০ ফুট) উঁচু জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৪২ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরও বেশি। মারা যায় প্রায় ২০ লাখ গবাদিপশু। গৃহহারা হয় হাজার হাজার পরিবার। আর্থিক বিচারে ক্ষতি হয়েছিল ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ। প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছিল।

এই ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ‘ম্যারি এন’ নামে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার পুরো উপকূল। উপকূলবাসী আজও ভুলতে পারছেনা সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি।

প্রলয়ংকরী এই ধ্বংসযজ্ঞের ৩৩ বছর পার হতে চলেছে। এখনও স্বজন হারাদের আর্তনাদ থামেনি। ঘরবাড়িহারা অনেক মানুষ এখনও মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতে পারেনি। এই ঘূর্ণিঝড়ে কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, পতেঙ্গা, সীতাকুণ্ড, হাতিয়া, সন্দ্বীপসহ পুরো উপকূলজুড়েই মানুষ মারা গিয়েছিলেন। এসব এলাকার কিছু অংশে এখনও বেড়িবাঁধ নেই।

৩৩ বছর পরও এখনও অনেক উপকূলীয় এলাকায় জোয়ার-ভাটা দৃশ্যমান। তাই আতঙ্কে আছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। ৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের পর এত বছর পেরিয়ে গেলেও বৃহত্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় বাঁধসমূহ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।

এদিকে আজ (মঙ্গলবার) কক্সবাজার-চট্টগ্রামসহ ‍উপকূলীয় এলাকায় সেই দিনের ভয়াল স্মৃতির স্মরণে দোয়া মাহফিল, খতমে কোরআন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে র‌্যালি-মানববন্ধন করে স্বজনদের স্মরণ করছে মানুষ।

এই বিভাগের সব খবর

মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

মানবিক রাষ্ট্র গঠন এবং জনগণের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার...

সিএমপির পাঁচ থানায় ওসি পদে রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে রদবদল করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সিএমপি কমিশনার মো. হাসান শওকত আলীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে...

রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন কক্ষে রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা...

সর্বশেষ

মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

মানবিক রাষ্ট্র গঠন এবং জনগণের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে...

সিএমপির পাঁচ থানায় ওসি পদে রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)...

রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী...

বিমানের ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট ফের চালু হচ্ছে ২৭ জুলাই

দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আগামী...

বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক

নগরীর বাকলিয়ায় আলোচিত চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের মামলায়...

পেকুয়ায় বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং বাজার এলাকায় যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশা...