চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপির নেতার পরিচয়ে পুলিশের ভ্যান হতে আটককৃত নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে চিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ করার কারণে কথিত বিএনপির নেতা কর্তৃক কাউছার নামের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক প্রতিনিধিকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠে।
গত শনিবার রাতে ১১ টার দিকে রাউজান পৌরসভার গহিরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, এক আসামীকে আটক করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ। তৃতীয় পক্ষের কিছু ব্যক্তির কারণে ওই আসামী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়’ জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাউজান থানা পুলিশ একটি দল অভিযান পরিচালনা করে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাজী সাফায়েত কালাম আরিয়ান নামের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটক করতে সক্ষম হয়। এই সময় জনৈক জসিম, রাকিব ও মারুফ নামের ব্যক্তি বিএনপির নেতার পরিচয়ে পুলিশের কাছ থেকে আটককৃত সেই ছাত্রলীগ কর্মীকে ছিনিয়ে নেয়। এই সময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার প্রতিনিধি কাওছার এই ঘটনার প্রতিবাদ জানালে বিএনপি নেতা পরিচয়ধারী নেতারা তাকে লাঞ্ছিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে তাকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করেন।
সংবাদ পেয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা গহিরায় জড়ো হলে কথিত বিএনপির নেতারা পালিয়ে যায়। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রাউজানের পক্ষে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কাজী সাফায়েত নামে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়েছিল। আন্দোলনে নানা ভাবে বাঁধা প্রদান করেছিল। আজ বিএনপির নেতার পরিচয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে চিনিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি কাউসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাকে হেনস্তাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানানো হয়। বিবৃতির শেষাংশে লেখা ছিল, ‘যারা যারা এই অপকর্মের সাথে জড়িত তারা যেন ভবিষ্যতে রাউজানে আর প্রবেশ করতে না পারে। ফ্যাসিস্টের পক্ষে কোনো শক্তিকে ছাত্রজনতা আর দাঁড়াতে দিবে না।
এই বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধ আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।

