সিটি করপোরেশনের পোর্ট কানেকটিং রোড প্রকল্প অসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রেখে সরকারের ৪০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. আনেয়ারুল হক মঙ্গলবার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এ এই বিষয়ে দুটি মামলা করেছেন বলে জানান কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক।
মামলার আসামিরা হলেন- সড়কের কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান মেসার্স রানা বিল্ডার্স থেকে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ পাওয়া কুমিল্লার মো. জাকির হোসেন, মেসার্স রানা বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আলম এবং ফেনীর সদর এলাকার বাসিন্দা ছালেহ আহাম্মদ।
এছাড়া ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড-ইউসিবিএল কুমিল্লা শাখার সাবেক এফভিপি এবং ব্যবস্থাপক মো. সারোয়ার আলম (বর্তমানে প্রধান শাখায়), সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আনিসুজ্জামান, এফএভিপি ছাইফুল আলম মজুমদার, ব্যাংকটির খুলশী শাখার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মকামে মাহমুদুল ইসলাম আরেফিন ও ইউসিবিএল চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা দেবু বোসকে আসামি করা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় আলোচ্য সাত আসামি ছাড়াও ছালেহ আহমদ নামে আরেক সুবিধাভোগিকে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, ‘দুদক কমিশনের নির্দেশে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুই মামলায় পৃথকভাবে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।’
দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ‘ইমপ্রæভমেন্ট অব পোর্ট কানেক্টিং রোড’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ৫০ কোটি ৮৪ লাখ ৭০ হাজার ৪৭৩ টাকা সর্বনিম্ন দরদাতা রানা বিল্ডার্স-ছালেহ আহমেদ (জেভি)-কে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
সে অনুযায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ আলম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এরপর মোহাম্মদ আলম দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে অবৈধভাবে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এক হাজার টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে আমমোক্তারনামার মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রæয়ারি কাজটি বাস্তবায়নের জন্য মো. জাকির হোসেনকে আমমোক্তার নিয়োগ করেন। জাকির হোসেন ওই আমমোক্তারনামা ব্যবহার করে মিথ্যা পরিচয়ে ‘রানা বিল্ডার্স-ছালেহ আহমেদ (জেভি)’- এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে ইউসিবিএলের কুমিল্লা শাখায় হিসাব খোলেন। আমমোক্তারনামা, মিথ্যা পরিচয় ও স্বাক্ষর যাচাই না করেই ব্যাংক কর্মকর্তারা তাকে সহায়তা করেন।

