“প্রত্যেক ঈদের পনেরো দিন আগে থেকেই আমাদের কেনাকাটার পর্ব শুরু হয়ে যেতো।আম্মু পছন্দ করে দিতো আমাদের দুই বোনের ড্রেস,আর আমরা স্পেশালী আমি আম্মুরটি।খুব সুন্দর করে মেহেদীর আলপনা আঁকতে পারতো আম্মু।ঈদের দিন সকালে আম্মু সব মিষ্টান্ন রান্না করে আমাকে ডাকতো।গোসল সেরে মা আর দুই মেয়ে নামাজ আদায় করে আম্মুকে সালাম করতাম।প্রথম সালামীটা আম্মুই দিতো।আব্বু নামাজ আদায় করে এলে সবাই একসাথে সেমাই খেয়ে আব্বু বখশিশ দিয়ে ঘুমাতে যেতেন।দিনভর আসা মেহমান আম্মু সামলাতেন।”এবারই প্রথম ঈদের কোন অনুভূতি এক মিনিটের জন্য ফিল করিনি।আব্বু, নানী আপা অনেক বলেছেন শপিংয়ে যেতে।আমার তো না ই,ছোট্ট বোনটারও মন টানেনি ওসবে।আল্লাহর ইচ্ছায় রোজা রাখছি আর একটি প্রত্যাশাতেই দিন গুনছি।তাহলো আম্মুর মৃত্যুর সত্যি রহস্য উদঘাটন।আপনারা সাংবাদিকগণ আম্মুকে শেষ গোসল দেওয়া মহিলার ও আম্মুর পা খাটে লেগে থাকা দেখেছেন সেই লোকদের সাথে তো কথা বলেছেন।
তাঁদের ভাষ্য কি বলে?বলুন সাংবাদিক সমাজ!
আমাদের জীবনের রং হারিয়ে ফেলেছি। আমরা অনেক আশা নিয়ে আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছি।হয়তো আপনারাই পারেন থরে থরে সাজানো গল্পগুলো ভেদ করে সত্যিটুকু বের করে আনতে।তাহলে হয়তো ফিরে আসবে আমাদের জীবনের স্বাভাবিকতা।
কিছুক্ষণ কান্না জড়ানো কন্ঠে, কিছুক্ষণ শূন্যে অপলক তাকিয়ে ছোট বোনকে পাশে নিয়ে কথাগুলো বলেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন নবীগঞ্জে গত ৬ই এপ্রিল রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হওয়া হেলেনার অনার্স পড়ুয়া বড় মেয়ে ফাতিমা।
আজ ২৭ দিনেও আসেনি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট নিয়ে সময় মতো পাঠকের সামনে হাজির হবো।আজকের রিপোর্টের মূল বিষয় ছিলো মাতৃহারা তিন সন্তানের জীবনে আসা এবারের বিবর্ণ ঈদ।সকল গৃহে ঈদ আনন্দ অনুরণিত হবে, কেবল ফাতিমাদের গৃহ ব্যতিত।সত্যি,জীবন কখনও চরম নিষ্ঠুর রুপে কারো কারো সামনে দাঁড়ায়! ছবিটি গত ঈদের দিন বিকেলে তোলা বলে জানায়
ওরা দুই বোন।

