একুশে পদকপ্রাপ্ত সংবাদব্যক্তিত্ব দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে’ এই মর্মবাণী আমাদের সকলকে ধারণ করতে হবে। বর্তমানের উপর ভর করে শিশুদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমরা অনেক স্বপ্ন দেখি তবে ঘুমিয়ে যে স্বপ্ন দেখি সেটা স্বপ্ন নয় জেগে থেকে যে স্বপ্ন আমরা দেখি সেটাই আসল স্বপ্ন। তিনি আরো বলেন, শিশুদের মনোজগত যেন আরো বেশি সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের ভবিষ্যত নির্মাণে শিশুসাহিত্যিকদের দায়িত্বশীল ভূুমিকা পালন করতে হবে। তাদেরকে শিশুমনস্তত্ব বুঝে শিশুদের জন্য শিশুসাহিত্য সৃষ্টি করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শিশুদের আনন্দকে ধারণ করে শিশুদের জন্য ভালো বই রচনা ও প্রকাশ করা জরুরি।
তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের লক্ষ্য স্থির করে ভবিষ্যত গড়তে হবে। মা-বাবা আর শিক্ষকদের উপদেশ মান্য করে চলতে হবে। কেননা তারাই এই পৃথিবীতে তোমাদের ভালো চায়।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের কাজটা কি, আমাদের দায়িত্ব কি তা আমাদের বুঝতে হবে। আমরা আমাদের কাজটা যদি ঠিকমতো করতে পারি তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। তিনি প্রসঙ্গক্রমে বলেন, চট্টগ্রামে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যন্সার হাসপাতাল নেই। আমি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছি। এটি আমার জন্য পরম আনন্দের বিষয়।
আজ (২৫ অক্টোবর) শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ শিশুসাহিত্য একাডেমি আয়োজিত দুদিনব্যাপী শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৪ উদ্বোধনী বক্তব্য রাখছিলেন জনাব এম এ মালেক। এর আগে তিনি বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উৎসবের প্রথম অধিবেশনে সূচনা বক্তব্য দেন একাডেমির পরিচালক কবি-সাংবাদিক রাশেদ রউফ।
সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, অধ্যাপক এলিজাবেথ আরিফা মুবাশ্শিরা। তিনি বলেন, এই উৎসব শিশুসাহিত্যিকদের উৎসব। শিশুদের চাওয়া-পাওয়া, শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত উপহার দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। শিশুদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের হাতে বই তুলে দিতে হবে। তাদের বইমুখী করতে হবে। একই সাথে শিশুদের আনন্দময় শৈশব উপহার দিতে হবে।

এ অধিবেশনে স্বরচিত ছড়া পাঠ করেন একাডেমির ফেলো শিশুসাহিত্যিক যথাক্রমে বিপুল বড়ুয়া, দীপক বড়–য়া, উৎপলকান্তি বড়ুয়া, অরুণ শীল, জসীম মেহবুব, এয়াকুব সৈয়দ, সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার, কেশব জিপসী, আজিজ রাহমান, আবুল কালাম বেলাল, মিজানুর রহমান শামীম ও অমিত বড়ুয়া।
সঞ্চালক ছিলেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী আয়েশা হক শিমু। উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করে উঠোন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও আনন্দধারা সাংস্কৃতিক একাডেমির শিশুশিল্পী বৃন্দ।
দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘শিশু-কিশোরদের সাহিত্যমুখী করতে আমাদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক ও শিশুসাহিত্যিক মর্জিনা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আলোচনায় অংশ নেন অধ্যক্ষ তরুণ কান্তি বড়ুয়া, অধ্যক্ষ ছন্দা চক্রবর্তী, প্রাবন্ধিক নিজামুল ইসলাম সরফী, অধ্যাপক গোফরান উদ্দীন টিটু, প্রাবন্ধিক এসএম মোখলেসুর রহমান। সূচনা বক্তব্য দেন গল্পকার রুনা তাসমিনা।
বিকেলে শিশুসাহিত্যিক ও কথাসাহিত্যিক দীপক বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ছড়া-কবিতা পাঠে অংশ নেন এক ঝাঁক ছড়াশিল্পী। সূচনা বক্তব্য দেন নাট্যকার, গল্পকার ও ছড়াকার কাসেম আলী রানা।
সন্ধ্যা ৬টায় ‘আগামীর শিশুসাহিত্য’ বিষয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিপুল বড়ুয়া। আলোচক ছিলেন শিশুসাহিত্যিক যথাক্রমে জসীম মেহবুব, আজিজ রাহমান, আবুল কালাম বেলাল, মিজানুর রহমান শামীম, কেশব জিপসী, অমিত বড়ুয়া, অধ্যাপক কাঞ্চনা চক্রবর্তী। সূচনা বক্তব্য দেন শিশুসাহিত্যিক ইসমাইল জসীম। সন্ধ্যা ৭ টায় সৈয়দ খালেদুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে ছড়া-কবিতা পাঠে অংশ নেন এক ঝাঁক ছড়াশিল্পী। সূচনা বক্তব্য দেন গল্পকার লিপি বড়ুয়া। উৎসব উপলক্ষে ‘শিশুসাহিত্য’ শিরোনামে ৩৯৬ পৃষ্ঠার একটি সমৃদ্ধ সংকলন প্রকাশ করা হয়।

