ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের টিকিটের জন্য সেহেরির পর থেকে যেখানে রেল স্টেশনে বিছানা পেতে অপেক্ষায় থাকতেন টিকিট প্রত্যাশীরা সেখানে এবারের প্রথম দিনের চিত্র ছিল ভিন্ন।
শনিবার ভোরে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ১০-১২ জন টিকিট প্রত্যাশী সেহেরি খেয়ে চলে আসেন। তারা মনে করেছিলেন ভিড় হবে। কিন্তু যত সময় গড়িয়েছে মানুষের চাপ তেমন বাড়েনি। সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা টিকিট পেয়ে যান।
এমন একজন যাত্রী ব্যবসায়ী মাকসুদুল আলম। তিনি বলেন, ‘ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বাড়ি আমাদের। বাড়িতে মা-বাবা ও এক ছোট ভাই আছেন। ব্যবসার কাজে চট্টগ্রামে থাকি। স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বাড়িতে যাব। ঝামেলা ছাড়াই টিকিট পেয়েছি, তাই ভালো লাগছে।’
এর আগে সকাল ৬টায় স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শনিবার ২৭ এপ্রিলের টিকিট দেওয়া হয়। সকাল ৮টা থেকে ৯টি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মাত্র ৫৭ শতাংশ কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হয়েছে। চট্টগ্রাম স্টেশনে কাউন্টার ও অনলাইন মিলে ৭ হাজার টিকিট রয়েছে। এরমধ্যে অর্ধেক কাউন্টারে বাকি অর্ধেক অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামের স্টেশনের ব্যবস্থাপক রতন কুমার চৌধুরী বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দেড় হাজারের মতো টিকিট অবিক্রিত ছিল। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টিকিট প্রত্যাশীদের তেমন চাপও নেই। কাল বা পরশু থেকে চাপ বাড়তে পারে। টিকিট কালোবাজারি রোধে সিসিটিভি ফুটেজ কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীও আমাদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা করছে।’
তিনি বলেন, ‘রোববার ২৪ তারিখ দেওয়া হবে ২৮ তারিখের অগ্রিম টিকিট, ২৫ তারিখ দেওয়া হবে ২৯ তারিখের, ২৬ তারিখ দেওয়া হবে ৩০ তারিখের এবং ২৭ এপ্রিল দেওয়া হবে ১ মার্চের টিকিট। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। কাউন্টারে দেওয়া হবে ৫০ শতাংশ বাকিগুলো অনলাইনে। একজন যাত্রী জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম নিবন্ধন সনদ জমা দিয়ে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট নিতে পারবেন যাত্রীরা। ঈদের অগ্রিম টিকিট ফেরত নেওয়া হবে না বলে বাণিজ্যিক বিভাগ জানিয়েছে।’
এদিকে ১ থেকে ৮ নম্বর কাউন্টারে আলাদা আলাদা ট্রেনের টিকিট দেওয়া হবে। এক নম্বর কাউন্টারে মহিলা, ওয়ারেন্ট ও রেলওয়ের পাশ টিকিটের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২ নম্বর কাউন্টারে সুবর্ণ ও সোনার বাংলা এক্সপ্রেস (স্নীগ্ধা ও শোভন চেয়ার), ৩ নম্বর কাউন্টারে পাহাড়িকা ও উদয়ন, ৪ নম্বর কাউন্টারে মহানগর গোধূলী ও মহানগর এক্সপ্রেস, ৫ নম্বরে তূর্ণা এক্সপ্রেস, ৬ নম্বর কাউন্টারে চট্টলা ও বিজয় এক্সপ্রেস ( স্নীগ্ধা, শোভন চেয়ার ও শোভন, ৭ নম্বর কাউন্টারে মেঘনা এক্সপ্রেস, চাঁদপুর স্পেশাল ট্রেনের বাকি কাউন্টারে অন্যান্য ট্রেনের টিকিটগুলো দেওয়া হবে।

