নিজস্ব প্রতিবেদক : বন্দরনগরী চট্টগ্রামের আকাশজুড়ে দিনভর মেঘ। ফলে কখনো মুষলধারে, কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। গত তিনদিন ধরেই এভাবে আছে শ্রাবণের আকাশ। শ্রাবণের টানা বর্ষণে ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। ছন্দপতন ঘটেছে জনজীবনেও। তবে লকডাউনের তৃতীয় দিনে সড়কে যানবাহনের পরিমাণ ছিল অন্য দুইদিনের তুলনায় বেশি। তাছাড়া ব্যাংক খোলা থাকায় অফিসগামীদের পড়তে হয়েছে দুর্ভোগে। সড়কে যানবাহন না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে।
এদিকে বৃষ্টির সাথে জোয়ারের পানিতে হাঁটুপানি জমেছে নগরের নিম্নাঞ্চলে। আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক, মা ও শিশু হাসপাতাল, শান্তিবাগ, হালিশহর, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, খাতুনগঞ্জসহ বেশ কিছু এলাকায় বাসা-বাড়ির নিচতলা, দোকানপাট ও সড়কে পানি উঠে গেছে। জোয়ারে পানি থেকে বাদ যায়নি আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালের পুরাতন ভবনের নিচতলাও। হাঁটুপানি মাড়িয়ে রোগীর স্বজন, চিকিৎসক, সেবিকা, কর্মকর্তাদের আসা-যাওয়া করতে হয় এ সময়। হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসা আসাদুজ্জামান জানান, পতেঙ্গা থেকে হালিশহর পর্যন্ত বিরাট এলাকার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোগীদের ভরসা মা ও শিশু হাসপাতাল। এখানে ক্লিনিকের চেয়ে অনেক কম টাকায় ভালো মানের সেবা মেলে। কিন্তু প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে, ভারী বৃষ্টি হলে কিংবা ভরা পূর্ণিমায় আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিকের মতো হাসপাতালটির পুরোনো ভবনের নিচতলায় হাঁটু পানি উঠে যায়। কবে মেঝে উঁচু করবে কিংবা নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হবে জানি না।
এদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে চট্টগ্রামে থেমে থেমে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। লঘুচাপের কারণে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে চলতি সপ্তাহে লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের কোনো আশংকা নেই।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ড. শহিদুল ইসলাম জানান, সাধারণত ঘূর্ণিঝড়ের জন্য যেসব পূর্বাভাস আছে, সেগুলো এখনও দেখা যায়নি। তবে আগামী মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার মুষলধারে বৃষ্টিসহ চলতি সপ্তাহের পুরোটাই বৃষ্টি পড়তে পারে। লঘুচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্য ঘটেছে। এ কারণে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়েছে। লঘূচাপ নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। নিম্নচাপে পরিণত হলে মুষলধারে বৃষ্টি হলে এটি দুর্বল হয়ে যাবে।
জানা যায়, কোনো স্থানে বায়ুর তাপ বৃদ্ধি পেলে সেখানকার বায়ু উপরে উঠে যায়। ফলে বায়ুর চাপ ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। সেটাই নিম্নচাপ। এ নিম্নচাপ অঞ্চলে প্রায় বায়ুশূন্য অবস্থায় থাকে বলে আশপাশের অঞ্চল থেকে বায়ু প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। এ নিম্নচাপ কেন্দ্রমুখী প্রবল ঘূর্ণি বায়ুপ্রবাহকে বলে সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়।

