নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ফটিকছড়িতে সাবেক ও বর্তমান দুই জনপ্রতিধিকে শোকজ করা হয়েছে। সোমবার (১৩ মে) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী কর্তৃক উপজেলা পরষিদের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ এম আবু তৈয়ব ও ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. ইসমাইল হোসেনকে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন। একইসঙ্গে তাদের দু’জনকে আগামী ১৪ মে ইউএনওর কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করেন, গত ৯ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এইচ এম আবু তৈয়ব আনারস প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে মানহানিকর বক্তব্য দেন। তিনি ওই প্রতীকের পক্ষে ভোট না দিলে ভোটারদের ‘মীর জাফর’ হবে বলে উল্লেখ করেন। তার ভিডিও ক্লিপ রয়েছে। বিষয়টি নির্বাচনী আচরণ বিধি ১৮ (ক) এর লংঘন।
এ ব্যাপারে এইচ এম আবু তৈয়ব বলেন, ‘এলাকার সভাসমাবেশে জনগনের হয়ে আমাদের অনেক কথাই বলতে হয়। আমরা ছোটকাল থেকে রাজনীতি করি। আমরা গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করি।’ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন মুহুরী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন উন্মুক্ত এবং অবাধ সুষ্ঠু করার ঘোষণা দেওয়ায় নির্বাচনে আমিসহ অনেকে অংশ গ্রহণ করেছেন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্য দুঃখজনক। এতে এলাকার ভোটার হতাশ হয়েছে।’ অপরদিকে, গত ১১ মে ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. ইসমাইল হোসেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এবং একই সাথে পূর্ববর্তী নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলায় আচরণ বিধিমালা এর ৫ (ক) এর উপবিধি লংঘন করেছেন। এ ব্যাপারে মেয়র মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমি জনগনের মুখপত্র হিসেবে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। এতে বিধিলঙ্ঘন হয়েছে কিনা ভেবে দেখিনি। তবে আমরা জনগনের কথা বলি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘তারা দুজনেই নির্বাচনী বিধি উপেক্ষা করেছেন। এটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০১৬ বিধিমালার পরিপন্থী। তাই তাদের দুইজনকে সশরীরে হাজির হয়ে বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না সে বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।’
উল্লেখ, ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপের আগামী ২১ মে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন মুহুরী মোটর সাইকেল এবং উত্তরজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বখতিয়ার সাঈদ ইরান আনারাস প্রতীকে নির্বাচন করছেন। উল্লেখ্য ১২ মে নির্বাচনি প্রচারণায় গাড়িতে একাধিক মাইক ব্যবহার ও ছবিযুক্ত টি শার্ট ব্যবহার করে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী বখতিয়ার সাইদ ইরানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ছালামত উল্লাহ শাহীনের ভাই ফরহাদ উল্লাহকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার জনাব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন,একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এর জন্য নির্বাচন কমিশন বদ্ধ পরিকর।

