চট্টগ্রাম নগরীতে দলবদ্ধ ধর্ষণে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করেছে হালিশহর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর রাতভর অভিযানে নগরীর পাঁচলাইশ ও পটিয়া থেকে অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হালিশহর থেকে ওই তরুণীকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরপর ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখা হয়। ক্রমাগত পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়।
নিহত নারীর নাম বিবি রহিমা আক্তার (২০)। তিনি নগরীর হালিশহর থানার ছোটপুল এলাকার বাসিন্দা। গ্রেফতার দু’জন হলেন- ওবায়দুল করিম (৩৩) ও মো. সেলিম (৪৩)।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায়সার হামিদ জানান, সেলিমের সঙ্গে রহিমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৬ জানুয়ারি তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেলিম পাঁচলাইশের কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর তাকে নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যান।
ওসি কায়সার হামিদ বলেন, ‘যাত্রাবাড়ীর ঘটনাস্থলটি আমরা এখনো শনাক্ত করতে পারিনি। তবে আসামিদের স্বীকারোক্তি ও তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সেখানেই একমাসেরও বেশি সময় আটকে রেখে কয়েকজন মিলে রহিমাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। চারজন ধর্ষণে জড়িত ছিল বলে তথ্য পেয়েছি।’
এ ঘটনায় রহিমার ভাইয়ের করা মামলার তথ্যে বলা হয়, পাশবিক নির্যাতনে গুরুতর আহত রহিমাকে গত সপ্তাহে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি হাসপাতাল থেকে রহিমার ভাইকে জানানো হয়। ১ মার্চ অবস্থার অবনতি হলে তার ভাই রহিমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এনে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেন। এরপর গত মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
ওসি কায়সার হামিদ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা গিয়ে মরদেহ হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করি। এরপর দুজন আসামিকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করি। তারা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মূল অপরাধী সেলিম। তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের মাধ্যমে রহিমাকে হত্যা করেছেন। আমরা ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।’

