.নগরের পুরাতন চান্দগাঁও পাঠানিয়া গোদা এলাকায় নালায় পড়ে এক শিশু ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গেছে।শনিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ওই শিশু ও তার পরিবারের পরিচয় জানা যায়নি।
ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, দুই নারী শিশুটিকে নিয়ে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে এক নারীর হাত ধরা অবস্থায় শিশুটি সাফা মারওয়া ইলেকট্রনিক্স নামক দোকানের সামনের ফুটপাতে থাকা গর্তে পড়ে যায়। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় দুই নারী দ্রুত শিশুটিকে টেনে তুলতে সক্ষম হন। এর পরপরই তারা শিশুটিকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নালাটির সংস্কারকাজ করার পর ভালোভাবে স্ল্যাব বসানো হয়নি। ফলে ফুটপাতটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এর আগেও কয়েকজন পথচারী ওই ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় নালায় পড়ে যায়। বিপজ্জনক স্থানটিতে কোনও প্রতিবন্ধকতাও তৈরি করা হয়নি। বর্ষা মৌসুম হলে শিশুটি পানিতে তলিয়ে যেতো।
এদিকে বহদ্দারহাটে নালায় পড়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। রোববার (২৭ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা বাহার উদ্দিন জানান, স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের সামনের নালায় পড়ে যান মানসিক ভারসাম্যহীন পঞ্চাশোর্ধ ওই ব্যক্তি। পরে উঠতে ব্যর্থ হলে পুলিশ ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্যরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
নগরে গত বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত খোলা নালা ও খালে পড়ে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে গত ২৫ আগস্ট মুরাদপুরে বৃষ্টির পানিতে নিখোঁজ হওয়া ছালেহ আহমেদের (৫০) খোঁজ মিলেনি। এরপর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি। এখনও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় নালায় পড়ে মৃত্যু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শেহেরীন মাহমুদ সাদিয়ার। তারপর গত ৩০ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউড়ী স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফুটপাত ধরে হাঁটার সময় নালায় পড়ে পা ভেঙে যায় কলেজছাত্র ইয়াসিন আরাফাতের। গেল ৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর এলাকায় খালে খেলনা তুলতে গিয়ে নিহত হয় কামাল হোসেন নামের এক শিশু।

