নগরীতে মশার উৎপাতে বিড়ম্বনায় পড়ার কথা জানিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পকে দুষলেন মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যতদিন খালগুলো মুক্ত না হবে, পানির প্রবাহ স্বাভাবিক না হবে, ততদিন এ অবস্থার উন্নতি হবে না। “বাস্তবতাকে আমি অস্বীকার করি না। দিনেও মশা, রাতেও মশা। এ নিয়ে বিড়ম্বনায় আছি।”
মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তিতে বুধবার আন্দরকিল্লায় নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন রেজাউল।
তিনি বলেন, “মশার উপদ্রবের কথা অস্বীকার করছি না। নগরীতে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ চলছে ২৬টি খালে। অনেক খালে বাঁধ। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে কয়েকদিন আগে গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে লজ্জায় পড়েছি। বিব্রত হয়েছি।
“খালের বাঁধে পানি জমে আছে। ঢিল ছুঁড়ে মারলাম, মনে হল কয়েক হাজার কোটি মশা উড়ছে। অথচ তিন দিন আগে সেখানে মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছে!”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, “হাজার কাজ করলেও মশার উপদ্রব কমবে না। জলাবদ্ধতার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নালা-খালা দখলকারী যতই প্রভাবশালী হোক, উচ্ছেদের ক্ষেত্রে ‘কোনো ছাড় দেওয়া হবে না’। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম। ওই বছরের ১৫ ফেব্রæয়ারি তিনি মেয়রের দায়িত্ব নেন।
রেজাউল করিম বলেন, “প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দেনা এবং নানা সমস্যা মাথায় নিয়ে মেয়রের দায়িত্ব নিই। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।”
মেয়র হিসাবে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে রেজাউল বলেন, “গত এক বছরে আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। বহদ্দারহাটের বারইপাড়া নতুন খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা পোর্ট কানেকটিং (পিসি) রোডের কাজ প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। “নগর ভবন নির্মাণ ও সড়ক উন্নয়ন বাতি প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নগরের উন্নয়নে ফুটপাত, বাণিজ্যিক ভবন, কিচেন মার্কেট উন্নয়ন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আধুনিক যান ও যন্ত্রপাতি কিনতে প্রকল্প প্রণয়ন করা হচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটন, মো. গিয়াস উদ্দিন, ও আফরোজা কালাম এবং সিটি করপোরেশনের সচিব খালেদ মাহমুদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

