চট্টগ্রামে নিহত মাহমুদা আক্তার মিতু ও সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার দম্পতির দুই সন্তানকে শিশু আইন মেনে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যা মামলা এবং এই দম্পতির দুই সন্তান আক্তার মাহমুদ মাহি ও আক্তার তাবাসসুমের ঘটনার সময় বয়স ছিল যথাক্রমে সাত ও চার বছর। বর্তমানে তারা তাদের দাদা ও চাচার সঙ্গে মাগুরায় রয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রকৃত ঘটনাস্থল চিহ্নিতকরণ ও ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জিজ্ঞাসাবাদ করা খুবই প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। গত ২৭ ফেব্রæয়ারি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এক আদেশে বাবুলের দুই শিশুসন্তানকে ১৫ দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম কার্যালয়ে পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন।
তবে এ কথা বলার আদেশ বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন বাবুলের ভাই হাবিবুর রহমান। শিশুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রয়েছে উল্লেখ করে তাদের বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়ার কথা বলা হয়েছে। আবেদনে দুই শিশুর সঙ্গে মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তদন্তকারী কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা হয়েছে।
আদেশটি নামঞ্জুর ক্রমে সাক্ষী শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে শিশু আইন ২০১৩-এর ৫৩ ও ৫৪ ধারার বিধান কঠোরভাবে অনুসরণপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয় বলে মহানগর দায়রা জজের আদেশে বলা হয়।
ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ২০১৬ সালের ৫ জুন নগরীর জিইসি মোড় এলাকায় বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদাকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এর পরদিন বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেছিলেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১২ মে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল পিবিআই। একই দিন নগরীর পাঁচলাইশ থানায় বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ বাদী হয়ে বাবুলসহ আটজনকে আসামি করে মামলা করেন।

