চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘীর পাড় এলাকায় তৈরি পোশাকের খুচরা বাজার ‘জহুর হকার্স মার্কেটে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি গাড়ি এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন শিকদার জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিনের তিনটি স্টেশন থেকে ১০টি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ফায়ারকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করেন। আগুনে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে, সেটিও এখনো জানা যায়নি।
এদিকে স্থানীয় কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন জানিয়েছেন, লালদিঘীর পাড় থেকে জুবিলি রোড পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ হকার্স মার্কেটের মাঝামাঝিতে আদালত ভবনের পাহাড়সংলগ্ন দোকান ও গুদামে আগুন লেগেছে। দোকান ও গুদামগুলোর প্রায় সবই সেমিপাকা। তবে আগুন পুরো মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ার আগেই ফায়ার সার্ভিসের টিম দ্রæত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে জানান ওসি নেজাম।
এদিকে হকার্স মার্কেটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের নন্দনকানন, আগ্রাবাদ ও চন্দনপুরা থেকে তাদের তিনটি ইউনিটের ১০টা গাড়ি সেখানে গিয়ে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে। রাত সোয়া ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন শিকদার বলেন, “এখন ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে।”
পরীর পাহাড়ের পশ্চিম পাশে আদালত ভবনের সীমানা দেয়াল ঘেঁষে পাঁচশর বেশি ছোট ছোট দোকান নিয়ে গড়ে উঠেছে পৌর জহুর হর্কাস মার্কেট। বড় এলাকাজুড়ে এ বিপণিকেন্দ্রে পাকা কিংবা আধাপাকা কাঠামোর ওপর দ্বিতল গুদাম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় আগুন লাগার সময় মার্কেট ছিল বন্ধ। তাছাড়া আগুন দ্রুত নেভানো সম্ভব হওয়ায় খুব বেশি দোকানে তা ছড়াতে পারেনি।
কর্মীরা জানান, আগুনের সূত্রপাত হয় মার্কেটের মাঝামাঝি এলাকায় মসজিদের লাগোয়া একটি দোতলা ভবনে। সেখানে নারী ও শিশুদের বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাক বিক্রি হয়।
কীভাবে সেখানে আগুন লাগল, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় কারও হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর ভোর রাতে এ মার্কেটে বড় ধরনের অগ্নিকা শতাধিক দোকান পুড়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা এবং অপ্রশস্ত সড়কের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে সে সময় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছিল।

