নারী-পুরুষে উপচে পড়া সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি ও মিত্রদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি জানান দিয়ে বললেন,আগুন নিয়ে খেলবেন না,সেই আগুনে নিজেরাই ঝলসে যাবেন। তিনি বিষ্ময়ের সাথে বলেন,নির্বাচন বানচাল করার সাহস কোথায় পায় ওঁরা?বাংলাদেশের জনগন কি বসে থাকবে? আজ ২০ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে আওয়ামীলীগ সভাপতি আলিয়া মাদ্রাসার জনসমুদ্রে বক্তৃতা দিতে গিয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট,গত তিন মেয়াদে সরকারের করা উন্নয়ন ও বিএনপির অপরাজনীতি নিয়ে কথা বলেন।তাঁর বক্তব্যের সাথে সহমত প্রকাশ করে লাখো জনতা মূহুর্মূহু করতালি ও শ্লোগানের মাধ্যমে অভূতপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি করেন।
শেখ হাসিনা বলেন,বোমাবাজি ও অগ্নিসন্ত্রাস করে বিএনপি ভোট বানচাল করতে চাচ্ছে অভিযোগ করে এদের বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ ও বিষ্ময়ের সুরে বলেন বোমাবাজি- খুন-অগ্নিসন্ত্রাস-আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষের জীবন কেড়ে নেবে,মানুষকে ভোট দিতে দেবে না,নির্বাচন বন্ধ করবে,এত সাহস এরা কোথা থেকে পায়? তিনি বলেন,আগুন নিয়ে খেলতে গেলে আগুনে হাত পুড়ে যায় এটা তাদের মনে রাখা উচিত।তারা মনে করেছে,দুটো আগুন দিয়েই সরকার পড়ে যাবে। অত সহজ নয়।অত ভাত দুধ দিয়ে খায় না। প্রসঙ্গক্রমে শেখ হাসিনা জিয়াউর রহমানের শাসনামলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তারা গণমানুষের দিকে তাকায়নি।মানুষের কল্যাণ করেনি। তারা লুটপাট, জনগণের ভোট চুরি করাটাই ছিলে তাদের কাজ।তারা দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কোনও কাজ করেনি।সেটা করলে অনেক আগেই বাংলাদেশের উন্নত হতে পারতো।তারা এসেছিল ক্ষমতাকে ভোগ করতে।দেশে ফিরে এসে আমি দেখেছি কীভাবে ক্ষমতা ভোগ করে কুক্ষিগত করে রেখেছে তারা। বঙ্গবন্ধু কন্যা মনে করিয়ে দেন,খালেদা জিয়া যে কূপ খনন করে গ্যাস পায়নি,আওয়ামী লীগের আমলে আমরা সেই কূপ খনন করে কেবল গ্যাস নয়,তেলও পেয়েছি।আল্লাহ জন বুঝেই ধন দেয়।আল্লাহ জানেন, ওদের কাছে দিলে সব নয়-ছয় করবে।আওয়ামী লীগের হাতে পড়লে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগবে। ঠিক কিনা বলেন?জনতা হাত উঁচিয়ে সহমত প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যখন উন্নয়নের কাজ করছি,তখন বিএনপির কাজ হচ্ছে পেট্রোল দিয়ে মানুষ পোড়ানো।যারা লুটেরা, খুনি, হত্যাকারী, দুর্নীতিবাজ, এতিমের অর্থ আত্মসাৎকারী তারাই এ দেশের মানুষকে আগুন দিয়ে পোড়ায়।নির্বাচন বানচাল করতে চায়। লন্ডনে বসে একটা কুলাঙ্গার হুকুম দেয়,আর কতগুলো লোক নিয়ে এখানে আগুন নিয়ে খেলে।কোনও মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ থাকলে এইভাবে আগুন নিয়ে মা-সন্তানকে পোড়াত পারে? আজ আগুন দিয়ে বাস পোড়াচ্ছে, রেল পোড়াচ্ছে। ২০১৩ সালে নির্বাচন ঠেকাতে অগ্নিসংযোগ করেছে, গাড়ি পুড়িয়েছে।তাদের আগুনে ৩ হাজারের মতো মানুষ পুড়ে যায়।পাঁচশর মতো মানুষ মারা যায়। তবে অগ্নিসংযোগ করে তারা ২০১৩ সালের নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি।২০১৮ সালে তারা নির্বাচনে এলো।কিন্তু ভোট করবে কী?ওই লন্ডনে বসে একটা নমিনেশন দেয়। গুলশানে বসে একটা দেয়,আর পল্টন বসে আরেকটা। নমিনেশন বাণিজ্য শুরু করে দিলো।এই সিলেটেও বাণিজ্য করেছে।বাণিজ্য করেই তাদের নির্বাচন শেষ। দোষ কার? দোষ তো তাদের।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান কে? মানিলন্ডারিং,গ্রেনেড হামলা,অস্ত্র চোরাকারবারি এবং দুর্নীতি হলো তাদের রাজনৈতিক চরিত্র।তাদের দুর্নীতির সাক্ষী এফবিআই দিয়ে গেছে।জীবনে কোনও দিন রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে বিদেশে চলে গেছে।আর এখন ওখানে বসে বসে হুকুম দিয়ে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়াচ্ছে,এটা হলো তাদের চরিত্র। আসন্ন নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন,এই নৌকা নুহু নবীর নৌকা।এই নৌকায় মানবজাতিকে রক্ষা করেছিলেন আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন।এই নৌকায় ভোট দিয়ে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে।আবার এই নৌকা যখন সরকারে এসেছে, দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়েছে। আজকে আপনাদের কাছে আমার আহ্বান,আগামী নির্বাচনে আমরা যাদের নৌকা মার্কার প্রার্থী দিয়েছি, তাদের ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।এ সময় তিনি হাত তুলে উপস্থিত জনতাকে ওয়াদা করতে বলেন।জনতাও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে হাত তুলে ওয়াদা করেন। শেখ হাসিনা বলেন,সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। দেশের মানুষ বারবার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে পেরেছে বলেই আমরা এটা করতে পেরেছি। আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সিলেট অঞ্চলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,সিলেটবাসী সবসময় আমাদের পাশে আছে।আমরা সিলেটে যত উন্নয়ন করেছি,জানি না সিলেটবাসী সেটা মাথায় রাখবেন কিনা?সিলেটে মেট্রোরেল স্থাপনের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে সরকার প্রধান উল্লেখ করেন।
বুধবার সকাল থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেন।দলীয় সভানেত্রীর নির্বাচনী প্রচারণার জনসভায় যোগ দিতে মিছিলে মিছিলে জড়ো হন নেতা-কর্মীরা।শেখ হাসিনা সভাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আলিয়া মাদ্রাসা ভরে গিয়ে জনস্রোত সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আশপাশের এলাকা,চৌহাট্টা, রিকাবীবাজারসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।বিশেষ করে সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নারীদের উপস্থিতি সকলের নজর কাড়ে। মন্চে উঠে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন ও বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা।

