অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশ দলের এই ভারতের বিপক্ষে।কাকতালীয় হোক আর যেভাবেই হোক বিভিন্ন খেলায় তা ছেলে বা মেয়েদেরই হোক,আমাদের স্বপ্নগুলো অনেকবার এই ভারতের কাছেই ভেঙেছে। তাই ভারতের বিপক্ষে প্রতিযোগীতামূলক আসরের নকআউটে মুখোমুখি হতে গেলেই আগের ক্ষতগুলো সামনে ভেসে ওঠে। আর একটু বেশিই দুশ্চিন্তা কাজ করে।আজ যখন দুবাইয়ে সেমিফাইনালে মুখোমুখি দুই দল,তখন থেকেই স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন ক্রিকেটানুরাগীরা।ভাগ্যিস সেই স্নায়ুচাপে দেশের ভবিষ্যৎ তারকারা ভোগেনি।তাইতো খেলার শুরু থেকে প্রতিটি বিভাগে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে ভারতীয় যুবাদের হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ।
দুবাইয়ের আইসিসি গ্রাউন্ডে আজ টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান বাংলাদেশী অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান।ব্যাট করতে নেমেই বাংলাদেশী পেসার মারুফ মৃধার তোপের মুখে পড়ে দলীয় তিন রানেই প্রথম উইকেট হারায় ভারত।তারপর যেনো আসা যাওয়ার মিছিল শুরু হয় ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের।এক পর্যায়ে ৬১ রানেই ছয় উইকেট হারায় তাঁরা।সপ্তম উইকেট জুটিতে মুশির খাঁন ও মুরুগান অভিষেক ৮৪ রান করে দলকে সম্মানজনক স্কোরের দিকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন।তখনই দ্বিতীয় স্পেলে এসে মারুফ মৃধা কাঙ্ক্ষিত ব্রেকথ্রু এনে দেন মুশির খাঁনকে আউট করে।ব্যক্তিগত ফিফটি পূর্ণ করেই মুশির আউট হয়ে গেলে সেই জুটি ভাঙে। মুরুগান অভিষেক চেষ্টা করেন টেল এন্ডারদের নিয়ে।কিন্তু ব্যক্তিগত ৬২ রান করে তিনিও আউট হয়ে গেলে শেষ পর্যন্ত ১৮৮ রানে অলআউট হয় ভারত। ১৮৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশও দুই রানেই প্রথম উইকেট হারায়।ভারতীয় দুই পেসার দুই দিক থেকেই ভালো বল করছিলেন।এক পর্যায়ে ৩৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।এরপর আরিফুল ইসলাম আক্রমনকে বেষ্ট ডিফেন্স হিসেবে নিয়ে সময়ের সাথে সাথে সব চাপ চাপিয়ে দেন ভারতের উপর।তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে যান আহরার আমিন।চতুর্থ উইকেট জুটিতে দুজন মিলে ১৩৮ রান তুলে সহজ জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।ব্যক্তিগত ৯৪ রানে থাকা আরিফুল উচ্চাভিলাষী শট খেলতে গিয়ে নিশ্চিত সেঞ্চুরিটি হাতছাড়া করেন।আরিফুল আউট হয়ে ফেরার সময় জয়ের জন্য দরকার ছিলো মাত্র ১৭ রান।কিন্তু সেই সতেরো রান করতে গিয়ে আরও দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশ ৪২.৫ ওভারে জয়সূচক রান নিয়ে ৪ উইকেটে জিতে ফাইনালে ওঠার আনন্দে ভাসায় দেশকে।আরিফুলকে জুটিতে দারুণ সাপোর্ট দেওয়া আহরার করেন ৪৪ রান। ভারতীয় দুই পেসার নামান তিওয়ারী ৩৫ রানে তিন আর রাজ লাম্বানী ৪৭ রানে দুই উইকেট নেন।৪১ রানে চার উইকেট নিয়ে ভারতকে কোনঠাসা করার স্বীকৃতি স্বরুপ ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান মারুফ মৃধা। সংক্ষিপ্ত স্কোর:-ভারত (অনূর্ধ্ব -১৯) ১৮৮/১০(৪২.৪) মুরুগান অভিষেক ৬২,মুশির খাঁন ৫০।মারুফ মৃধা ৪/৪১, জীবন ২/২৯,বর্ষন ২/৩৯। বাংলাদেশ (অনূর্ধ্ব -১৯) ১৮৯/৬(৪২.৫) আরিফুল ৯৪, আহরার ৪৪।নামান তিওয়ারি ৩/৩৫। ফলাফল:- বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যান অফ দ্য ম্যাচ:- মারুফ মৃধা।
