ছিনতাইকারী দলের এক সদস্য ওষুধ কেনার জন্য গিয়েছিল ফার্মেসিতে। এরপর ওই ফার্মেসিতে ঢুকে পড়ে আরও তিন সদস্য। পরে ফার্মেসির মালিক-কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটে নিয়েছে ট্যাব, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা। আফ্রিকান ফিল্ম দেখে তারা রপ্ত করেছে ছিনতাইয়ের কৌশল। নগরীর বায়েজিদ থানাধীন অক্সিজেন কাঁচাবাজার এলাকায় এভাবেই ছিনতাই করেছে তারা। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বায়েজিদ থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- নোয়াখালী সদর থানার নোল্লা বাজারের লাল মিয়া সওদাগর বাড়ির মৃত শফিক উদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেন আসলাম (২৭), সীতাকুÐের ভাটিয়ারী খাদেমপাড়ার আমির কোম্পানি বাড়ির মো. সুলতান আহমেদের ছেলে মো. তানভীর ইসলাম (২৭), জঙ্গল সলিমপুর লতিফ নগর এলাকার মো. শফি আলম প্রকাশ শামসুল আলমের ছেলে কামাল উদ্দীন প্রকাশ মহিউদ্দিন (২৮) ও রাঙ্গুনিয়ার রানিরহাট বগারবিল এলাকার মো.জামালের ছেলে মো. সোহেল (৩০)। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) উত্তর বিভাগের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে এসব তথ্য দেন সিএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান।
তিনি জানান, নগরীতে রাত দশটার পর যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে এলে গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাইভেটকারযোগে টহল দেয়। পথচারী ও জরুরি প্রয়োজনে খোলা থাকা বিভিন্ন দোকানে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। কেউ ছিনতাইয়ে বাধা দিলে চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা সীতাকুÐে যাওয়ার কথা বলে গত ৫ ফেব্রæয়ারি দুপুর ২টার দিকে নগরীর অলংকার মোড় থেকে প্রাইভেটকার ভাড়া করে। কৌশলে ফৌজদারহাট-বায়েজিদ লিংক রোড এলাকায় প্রাইভেটকারের চালক ইলিয়াছকে নিয়ে এসে জিম্মি করে। এরপর ইলিয়াছের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবাকে ফোন করে প্রাইভেটকারটি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। অল্প সময়ের মধ্যে এত টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বায়েজিদ লিংক রোডে রাত ৮টায় চালকের বিকাশ নম্বরের পাসওয়ার্ড জেনে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও নিয়ে নেয়।
উপ-কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান বলেন, ছিনতাইয়ে সফলতা পাওয়ার জন্য ফটিকছড়ি বাজারে গিয়ে একটি মাজারে তারা মানত করে। গত ৬ ফেব্রæয়ারি ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বায়েজিদ-অক্সিজেন কাঁচাবাজার এলাকায় ফার্মেসি থেকে ৭০ হাজার টাকা, একটি ট্যাব ও একটি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর মুরাদপুর এলাকা থেকে একজন রিক্সা যাত্রীর মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।
অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, গত ৬ ফেব্রæয়ারি এই ছিনতাইকারীরা ভোর হয়ে যাওয়ায় ছিনতাইকৃত প্রাইভেটকারটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে পার্কিং করে রাখে। সেখানে গাড়ি রাখলে কেউ সন্দেহ করবে না, এটা ভেবেই জায়গাটি বেছে নেয় তারা। এরপর পুনরায় তারা ছিনতাই করার জন্য রাত ৮টার দিকে মেডিকেলের সামনে একত্রিত হয়। গত ৯ ফেব্রæয়ারি রাত ১০টা থেকে সারারাত নগরীর রাস্তায় প্রাইভেটকার নিয়ে স্থানে ঘুরে ঘুরে ১০-১২টি স্থানে ছিনতাই করে তারা।
বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ছিনতাই করা একটি নেভি-বøু রঙের প্রাইভেটকার, কাঠের বটিযুক্ত লোহার বেশে তৈরি ওয়ান শুটার, ৪ রাউন্ড কার্তুজ, একটি স্টিলের তৈরি টিপ ছোরা, ১০টি মোবাইল, একটি ট্যাব ও নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ৪ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

