ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের আবর্জনা ফেলনা নয়; জমিয়ে রাখলে মহল্লায় মহল্লায় গিয়ে নগদ টাকায় কিনে নিচ্ছেন রাউজান পৌরসভার মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ।
আমাদের জীবনযাত্রার নিত্যপ্রয়োজনে প্লাস্টিকের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। জীবনের প্রায় প্রতি ক্ষেত্রে বিকল্প সামগ্রী হিসেবে পলিমারের ব্যবহার হচ্ছে৷ ক্যারি ব্যাগ থেকে ওষুধের বোতল, খাদ্য পরিবেশনের পাত্র থেকে ফুলেব টব, বিভিন্ন ক্ষেত্রে চটের ব্যাগ হোক কিংবা কাঁচের শিশি অথবা চিনেমাটির থালা কিংবা মাটির টব এসব কিছুরই বিকল্প হিসেব ব্যবহৃত হচ্ছে প্লাস্টিক৷ অপেক্ষাকৃত সস্তা, বহনযোগ্য হওয়ার কারণে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছ পলিমারে তৈরি সামগ্রী৷
সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব থাকায় তারা ব্যবহার করা প্লাস্টিকের সামগ্রী যেখানে-সেখানে ফেলে দিচ্ছে৷ যেহেতু প্লাস্টিকের সামগ্রী মাটিতে মিশে যায় না, এর একাংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয়, তাই ক্রমশ তা বর্জ্য হিসেবে জমা হচ্ছে লোকালয়ের বুকে৷ আর তা থেকেই ছড়াচ্ছে দূষণ৷ নালা, খাল, নদীতে পড়ে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে পানি নিষ্কাশনের। কৃষিজমিগুলো অনাবাদিতে পরিণত হচ্ছে।
প্লাস্টিক বর্জের এমন ভয়ঙ্কর অভিশাপ হতে রাউজানের পৌরসভার নাগরিকদের মুক্তি দিতে মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ গ্রহণ করেছেন ব্যতিক্রমধর্মী আবর্জনার হাট।
সরেজমিন দেখা যায়, নিত্যদিন রাউজান পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে বসছে ভ্রাম্যমান আবর্জনার হাট। প্রতিদিন বিকালে পৌরসভা কার্যলয় চত্বরে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড হতে কিশোর, মহিলা, যুবক-বৃদ্ধ বাড়ির আশেপাশের আবর্জনা কুড়িয়ে নিয়ে আসলে বস্তাপ্রতি দুইশত টাকা করে কিনে নেন মেয়র।
মেয়রের উদ্যোগে করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া অনেক মহিলা ও যুবক পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক ও হাট বাজার হতে প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা কুড়িয়ে দৈনিক উপার্জন করছে।
এমনি একজন চেমন আরা বেগম বলেন, আমি আমার নাতি সহ প্রতিদিন ৪ হতে ৫ বস্তা সংগ্রহ করে সন্ধ্যায় পৌরসভা নিয়ে আসলে মেয়র কিনে নেন। এখন দৈনিক ৮’শ হতে এক হাজার টাকা আয় হয়।
রাউজান জলিল নগর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সৈয়দ হোসেন কোম্পানি বলেন, বছরখানেক আগে রাউজান পৌরসভার কার্যালয় চত্বর ছিল আবর্জনার ভাগাড়। বর্তমানে পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ পরিবেশ বান্ধব উদ্যোগের কারণে পৌরসভার প্রতিটি হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট এখন প্লাস্টিকমুক্ত। এইকর্মসূচী অব্যহত রাখুক মেয়রের কাছে এই প্রত্যাশা রাখি।
পৌর নাগরিক দীপলু দে দিপু বলেন, মেয়রের প্লাস্টিক আবর্জনা ক্রয়ের কারণে কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কর্মহীন কিছু মানুষ নদী, নালা ও কৃষি জমি হতে প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা সংগ্রহ করে মেয়রের নিকট বিক্রি করছেন। এতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা দূরীভূত হচ্ছে। কৃষি জমির আবাদ হচ্ছে।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে পৌর মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, আমার নেতা মাননীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পরামর্শে ও নির্দেশনার রাউজান পৌরসভাকে একটি জনবান্ধব, আধুনিক ও পরিবেশ বান্ধব পৌরসভায় উপনীত করার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। অপচনশীল প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনার হাট এরই একটি অংশবিশেষ। রাউজান পৌরসভাকে প্লাস্টিকমুক্ত করতে আমরা পৌর নাগরিকদের কাছ হতে ভ্রাম্যমাণ আবর্জনার হাট বসিয়ে প্রতিবস্তা ২শত টাকা করে কিনে নিচ্ছি। প্রতি হাটে হতে পাঁচ-ছয় শতাধিক বস্তা অপচনশীল প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা সংগৃহীত হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার বস্তা প্লাস্টিক আবর্জনা সংগ্রহ করেছি। আগামীতে পৌরসভার কর্মচারীরা প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত এসব আবর্জনাগুলো প্রক্রিয়াজাতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এই বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, রাউজানের পৌরসভার মেয়র অপচনশীল প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা ক্রয়ের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা বেশ প্রশংসনীয়। এই প্লাস্টিক আবর্জনা পঞ্চাশ বছরে পচবে না। তাই নাগরিকদের পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন করার লক্ষ্যে পৌরসভার আবর্জনা ক্রয়ের উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন “গ্রাম হবে শহর” এর আদর্শরূপ রাউজান।

