করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। তাদের সঙ্গে রয়েছে মোবাইল কোর্টও। চট্টগ্রাম নগর ও জেলার হাট-বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েনসহ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। যারা ঘরের বাইরে বের হচ্ছে তাদেরকে বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনের কথা যারা বলছেন তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে। তবে যারা বিধিনিষেধ অমান্য করে ঘর থেকে বের হচ্ছেন তাদেরকে আটক করা হচ্ছে। অনেককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদÐ বা অর্থদÐ প্রদান করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, ওষুধ এবং খাবারের দোকান ছাড়া শহরে অন্য কোনো দোকানপাট খোলা নেই। জরুরি প্রয়োজনে কিছু লোক বের হচ্ছে। তারা আমাদের চেকপোস্টে কিংবা টহল টিমের কাছে যথাযথ কারণ দেখাচ্ছেন। প্রয়োজন হচ্ছে না, তাই আমরা আপাতত কঠোর হচ্ছি না। প্রয়োজনে অবশ্যই কঠোর হব। অলিগলিতে কিছু মানুষ অহেতুক বের হচ্ছেন বলে জানতে পেরেছি। থানার টহল টিমগুলোকে এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটাও বন্ধ হয়ে যাবে।
চট্টগ্রাম সেনানিবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লকডাউন নিশ্চিত করতে সরকারি নির্দেশে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ২৮টি টহল টিম চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে টহল কার্যক্রম জোরদার ও চেকপোষ্ট স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে সেনাবাহিনী চট্টগ্রাম নগরীতে টহল দিতে শুরু করে। একইসঙ্গে, চেকপোস্টেও দায়িত্ব পালন করছে তারা। এছাড়াও, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ছয়টি চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। মোতায়েন রয়েছে তিন শতাধিক অতিরিক্ত পুলিশ।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম নগরীতে সরকারি বিধিনিষেধ না মানায় ৩৭ মামলায় ১৩ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করেছেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করেন ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। সরকারি কঠোর বিধিনিষেধ প্রতিপালন বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক বলেন, আমাদের ৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন এলাকায় টহলে আছেন। তারা বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এতে যারা বিনা কারণে ঘর থেকে বের হয়েছেন, তাদের জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়াও নির্দেশনার বাইরে যারা দোকান খোলা রেখেছেন তাদের জরিমানা ও দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’
কঠোর বিধিনিষেধের নির্দেশনা না মেনে বিনা প্রয়োজনে বের হওয়া ২১ জনকে নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে আটক করে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন জানিয়েছেন।

