সন্দ্বীপে বাড়ির দরজার চলাচলের পথ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো মামা সুধীর জলদাস ও ভাগ্নে মঙ্গল দাসের পরিবারের মধ্যে। তার ধারাবাহিকতায় গতকাল চরাচলের পথে ভাগ্নে মঙ্গল জলদাসের পক্ষে একটি ওয়াল নির্মান করে পথ বন্ধ করার প্রাক্কালে স্থানীয় কাউন্সিলর মোক্তাদের মাওলা ফয়সাল ও এসআই মোবারক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে সেটি চলাচলের পথ দাবী করে ওয়ালটি ভেঙ্গে দেয়।
সেই খবর ফোনের মাধ্যমে পৌঁছে দুই পক্ষের কাতারে অবস্থানরত পুরুষ সদস্যদের নিকট। সেটি নিয়ে চলমান বিরোধের জের ধরে গতকাল সন্ধ্যার পর কাতারে অবস্থানরত মামা সুধীর জলদাসের উপর হামলা করে জুয়েল জলদাস ও তার ভাই মিলে। রক্তাক্ত মামা সুধীর জলদাসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাতারে ভাগ্নে জুয়েলকে আটক করে কাতার পুলিশ। সুধীর জলদাসের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসীর দেয়া ভাষ্যমতে সেই ক্ষোভে গত ১৮ আগষ্ট দিবাগত রাত তিনটায় মামার ঘরে পেট্রােল ছিটিয়ে অগ্নি সংযোগ করেছে মঙ্গল জলদাসের ছেলে ও তার আত্মীয়রা মিলে। এবং পুরো ঘর পুড়ে ছায় হয়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করে সুধীর জলদাসের পরিবার। সুধীর জলদাস কাতার প্রবাসী পিতা মৃত সুরেশ জলদাস সুধীর জলদাসের বাড়ি, পৌরসভা ৯ নং ওয়ার্ডের কেন্জাতলীর উত্তর পাশে।ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজন জানান সুনীল ও দুলাল পিতা মৃত নগেন্দ্র, স্মরন পিতা সুমঙ্গল ও বাইরে থেকে আসা সুনীল কান্দ্রা, নান্টু তুষার এরা মিলে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।পরিবার দাবী করে অগ্নিকান্ডে স্বর্ন ১৫ ভরি, মোবাইল ৬ টি, টাকা ১ লক্ষ ,বিদেশী কম্বল ২৫ টি, সৌর বিদ্যুৎ ২ টি এলইডি টিভি ২ টি, ফ্রীজ ১ টি, পালং বা খাট ৭ টি, আলমারী ৫ টি,হোন্ডা ১ টি, সহ প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ও দলিল দস্তাবেজ সহ প্রয়োজনীয় কাগজ পুরে ছাই হয়ে গেছে। কিন্তু বিরোধী পক্ষ বা অভিযুক্ত মঙ্গল জলদাসের পক্ষে তার স্ত্রী শেফালী রানী ও পুত্রবধু রত্না রানী বলেন আমাদের ঘরে বা বাড়িতে কোন পুরুষ নেই প্রায় দেড়মাস ধরে। তাহলে আমরা মহিলারা কি আগুন লাগাতে পারি বরং তারা আগুন লাগার নাটক করে নিজেদের ঘরে নিজেরা আগুন লাগিয়েছে। আমরা রাত্রে দেখেছি তারা তাদের আত্মীয় পাশ্ববর্তী রাস্তার দক্ষিন পাশে নিত্যলাল,প্রানগফুর, হরেকৃষ্ণ এই তিন জনের ঘরে হোন্ডা ও মুল্যবান সামগ্রী রাত্রে সরিয়ে ফেলতে। সেখানে প্রশাসনের লোকজন অভিযান চালালে সেই সব জিনিস এখনো পাওয়া যাবে।
ঐদিন সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন স্থানীয় মেয়র মোক্তাদেন মাওলা সেলিম, কাউন্সিলর রাহেনা বেগম,কাউন্সিলর মোক্তাদের মাওলা ফয়সাল, আওয়ামীলিগ নেতা শওকত, নিখিল সহ সন্দ্বীপ থানার একটি প্রতিনিধি দল। এ নিয়ে উক্ত রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রক্রিয়া চলছে। স্বাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সুধীরের স্ত্রি ছায়ারানী, পুত্রবধু সুমী রানী দাস যিনি ৭ মাসের গর্ভবতী ও আগুন নেভাতে আসা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম,শহীদ,আওয়ামীলিগ নেতা জসিম, হরে কৃষ্ণ , নকুল ও বন্ধ দরজা খুলে দেওয়া সুরবালা বলেন অনেক লোকজন বলছেন রাতে দলই পাড়া থেকে এসে সুনীল, কান্দ্রা, নান্টু তুষার এরা মঙ্গল জলদাসের ঘরে অবস্থান করেছিলো এবং রাতে সবাই মিলে সুযোগ বুঝে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

