ডেঙ্গু পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করতে চলেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় দিন দিন পরিস্থিতি চরম অবনতি হচ্ছে।কেবল আজই ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়।আর আক্রান্ত হয়ে আজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার আটাত্তর জন।এটি শুধু ঢাকার সংখ্যা।সারাদেশে আজ মোট ২৭৬৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
৬ আগস্ট রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়,গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দুই হাজার ৭৬৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে এক হাজার ৭৮ জন এবং সারা দেশে (ঢাকা সিটি ব্যতীত) এক হাজার ৬৮৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মোট দুই হাজার ৭৪১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।এর মধ্যে ঢাকা সিটির বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে এক হাজার ১৪৬ জন এবং সারা দেশের (ঢাকা সিটি ব্যতীত) বিভিন্ন হাসপাতালে থেকে এক হাজার ৫৯৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত সাতজন ঢাকা সিটিতে এবং তিনজন সারা দেশে (ঢাকা সিটি ব্যতিত) মারা যান। এনিয়ে এই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৩১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে ২৪৮ জন এবং সারা দেশে (ঢাকা সিটি ব্যতীত) ৬৫ জন মারা যান। চলতি বছরের আজ ৬ আগষ্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬ হাজার ৭৩২ জন।এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে ৩৫ হাজার ৬০১ জন ও সারা দেশে (ঢাকা সিটি ব্যতীত) ৩১ হাজার ১৩১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এরচেয়ে বহুগুণ বেশী বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।কেননা অনেকেই বাসায় চিকিৎসা নেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৫৭ হাজার ৭২ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।এর মধ্যে ঢাকা সিটির বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ৩০ হাজার ৭৪৮ জন এবং সারা দেশের (ঢাকা সিটি ব্যতীত) বিভিন্ন হাসপাতালে ২৬ হাজার ৩২৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে সারা দেশে মোট নয় হাজার ৩৪৭ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ঢাকা সিটিতে চার হাজার ৬০৫ জন এবং সারা দেশে (ঢাকা সিটি ব্যতীত) চার হাজার ৭৪২ জন। ইতিমধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় গত বছরকে ছাড়িয়ে গেছে এই বছরের সাত মাস ছয় দিনের হিসেবেই।গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিলো সর্বমোট ৬২ হাজার ৩৮২ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে মোট ২৮১ জন মারা গিয়েছিলেন।

