দিনভর মেঘের দখলে চট্টগ্রামের আকাশ। মেঘের আড়ালে ছিল সূর্য। তবে মাঘের শুরুতে প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। ফলে দিনভর রোদের খরতাপ শীতের অনুভূতি কমিয়ে দেয়। রাতেও সেই উষ্ণতার ছাপ ছিল। মাসের শেষদিকে শীত প্রায় বিদায় নিচ্ছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার সকালের শুরুটা রোদ্দুরে হলেও আচমকা বৃষ্টিতে খানিক বাড়িয়ে দিয়েছে শীতের অনুভূতি। এসময় দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির ফলে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। তবে তাও স্বাভাবিক বলে জানিয়েছে আবহাওয়াবিদরা। হঠাৎ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েন রাস্তায় বের হওয়া সাধারণ মানুষ। সঙ্গে ছাতা না থাকায় অনেককেই কাকা ভেজা হয়ে গন্তব্যে ছুটতে হয়।
এদিকে সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, মাঘ মাসের শুরুতে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে আসা মেঘের দল উত্তরাঞ্চল দিয়ে দেশের সীমানায় প্রবেশ করেছে। মেঘ এসে ওই পথে বাধার প্রাচীর তৈরি করে। ফলে শীতের ঠা-া বাতাস দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পরে আকাশে জড়ো হওয়া ওই মেঘ থেমে থেমে ঝিরিঝিরি বা গুঁড়িগুঁড়ি আকারে বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। উত্তরের হিমালয় পর্বতমালা ও তিব্বত থেকে বাতাস বাহিত হওয়ার কারণে এই বাতাস এমন হিম ঠা-ার অনুভূতি দেয়। তবে তীব্র শীত বা শৈত্যপ্রবাহের কোনো সম্ভাবনা নেই চট্টগ্রামে। যদিও কথায় আছে, ‘মাঘের শীতে বাঘ কাঁপে’ তবে চট্টগ্রামের আবহাওয়ার জন্য তা মোটেও সত্যি নয়।
এ বিষয়ে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, ‘হিমালয় পর্বতমালা থেকে মেঘ এসে পড়ায় রোদের দাপট কমে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। আর রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তির দিকে থাকবে। বৃষ্টি আসায় কিছুটা ঠাণ্ডা বাতাসও এর সঙ্গে যোগ দেবে। ফলে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঠাণ্ডার অনুভূতি একটু বাড়তে পারে। তবে চট্টগ্রামে শৈত্যপ্রবাহ হবার সম্ভাবনা নেই।

