আইএইচআর নামের অসলো ভিত্তিক একটি এনজিওর প্রতিবেদন বলছে ইরান মে মাসে ১৪২টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। যা ২০১৫ সালের পর দেশে এক মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোকের মৃত্যুদণ্ড।৩১শে মে বৃহস্পতিবার মানবাধিকার গোষ্ঠীটি এ তথ্য জানিয়েছে। অসলো ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস বা আইএইচআর এনজিওর তথ্য অনুসারে,অর্ধেকেরও বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের জন্য এবং বাকিগুলি ইসলাম ধর্ম অবমাননা, ব্যভিচার এবং পৃথিবীতে দুর্নীতি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছিল। তারা আরও জানায় জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে, ইরান ৩০৭টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।যা গত বছরে একই সময়ে রিপোর্টে ছিলো ২২০টি। আইএইচআর এনজিও এর পরিচালক মাহমুদ আমিরি মোগাদ্দাম একটি বিবৃতিতে বলেছেন,ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ডের তীব্রতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য হল প্রতিবাদ প্রতিরোধ করা এবং তাদের শাসনকে দীর্ঘায়িত করার জন্য সামাজিক ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া। এসব মৃত্যুদণ্ডের ফলে মৃত্যুদণ্ডের বর্তমান গতি কমানোর জন্য ইরানের ওপর আরও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত মাসে নিউইয়র্ক ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছিল,সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ইরানের কর্তৃপক্ষের মৃত্যুদণ্ডের নাটকীয় বৃদ্ধি জীবনের অধিকারের একটি গুরুতর লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিকভাবে এর নিন্দা করা উচিত। জাতিসংঘ বলেছে যে মাদকের অপরাধগুলি সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের মধ্যে পড়ে না যার জন্য নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীনে মৃত্যুদণ্ডের দরকার পড়ে।আর এই চুক্তিতে ইরান একটি পক্ষ।মূলতঃ মাদকের সঙ্গে জড়িত অপরাধের জন্য মৃত্যুদন্ড প্রদানকে সকল পক্ষ থেকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
আইএইচআরএনজিও অনুসারে, ইরান ২০১০ সাল থেকে ৭,২৯২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যার মধ্যে ৬৮ জন নাবালক এবং ১৯৩ জন নারী রয়েছেন।উল্লেখ্য ইরানে শরিয়াহ আইন প্রচলিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, গত বছর ৫৭৬ টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান চীনের পরে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।যেখানে চীনে ৮৮৩টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।যদিও আসল সংখ্যা তারচেয়ে বেশী হবার সম্ভাবনা বেশী। সূত্র:-ভয়েস অফ আমেরিকা ও এপি।

