অপরাধী অপরাধ করে সেটি লুকাতে কতো কৌশলের আশ্রয় নেয়।কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যদি তৎপর হয় তাহলে কোন কৌশলই আর কাজে আসেনা। সবকিছুই প্রকাশ হয়।তেমনই এক হত্যা রহস্যের উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবি পুলিশের একটি দল। গত ১৯শে এপ্রিল রাতে সোনারগাঁও থানা এলাকায় খুন হন মৌসুমী নামের ২৮ বছর বয়সী এক নারী।জানা যায় দশ বছর আগে মৌসুমীর বিয়ে হয় উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকার নেওয়াজ আহমেদের ছেলে শরিফুল ইসলাম রাসেল(৩২)এর সাথে।বিয়ের পর তাঁদের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।কিন্তু বিয়ের পর থেকেই মৌসুমী বুঝতে পারেন তার স্বামী রাসেলের কয়েকটি মেয়ের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক আছে।
মৌসুমী এর প্রতিবাদ করলে সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য।বোনকে মৃত অবস্থায় পেয়ে তার ভাই শাহজালাল বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।সেই মামলার তদন্তে নেমে ডিবি পুরো রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি দুইজনকে আটক ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত গাড়ি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আজ ২৩শে মে মঙ্গলবার জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।এতে বলা হয়,গত ২২ মে রূপগঞ্জ থানাধীন গোলাকান্দাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরজু (৩৫) ও গাড়ির চালক রাকিব হোসেনকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়।এর আগে এ মামলার আরেক আসামি গোলাকান্দাইলের নেওয়াজ আহমেদের ছেলে শরিফুল ইসলাম রাসেলকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানায়,গ্রেপ্তারের পর রাজিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানান,পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৯ এপ্রিল রাতে কৌশলে মৌসুমীকে নিয়ে গাউছিয়া মার্কেটে কেনাকাটা শেষে তার পূর্ব পরিচিত বন্ধু চালক রাজিব ও আরজুর সহযোগিতায় মৌসুমীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে এ ঘটনাটিকে ডাকাতির নাটক সাজানোর জন্য আসামি শরিফুলের পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় আসল সত্য বেড়িয়ে আসে।
