জি সেভেন শীর্ষ বৈঠক শেষ হলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও নেতারা জাপানেই অবস্থান করছিলেন।স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জেলেনস্কির সংবাদ সম্মেলন ছিলো।আমেরিকা সহ অন্যরা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করছিলেন বিভিন্ন দেশের সাথে। সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়াকে “শেষ আগ্রাসী” আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতের যুদ্ধ প্রতিরোধ করার জন্য বিশ্বকে আহ্বান জানিয়েছেন।জাপান সফরে এসে জেলেনস্কি মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং কিয়েভের জন্য অস্ত্র নিশ্চিত করেছে। সম্মেলনের এক ফাঁকে জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলো যুদ্ধের কেন্দ্রে থাকা বিধ্বস্ত বাখমুত শহর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘এটা বেদনাদায়ক ঘটনা। সেখানে আর কিছু্ই অবশিষ্ট নেই।তবে তিনি বলেন, সেখানে অনেক রুশ সেনার মৃতদেহ রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা পারমাণবিক বোমার ভয়াবহতার শিকার হয়েছিল জাপানের হিরোশিমা শহর।
সেই শহরে গত শুক্রবার সকালে শুরু হয় বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জোট জি সেভেন এর শীর্ষ সম্মেলন। জেলেনস্কি সম্মেলনের শেষ দিনে হিরোশিমায় শান্তিস্তম্ভে ফুল দিয়ে বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সম্মেলনের শেষ দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনের জন্য সাড়ে ৩৭ কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেন।তিনি জেলেনস্কিকে বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে ইউক্রেনকে যতটা শক্তিশালী করার প্রয়োজন, ওয়াশিংটন তা করবে। বাইডেন বলেন,পুরো জি সেভেন ইউক্রেনের সঙ্গে থাকবে।আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা ইউক্রেনকে ছেড়ে যাব না। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বাখমুতকে জয় হিসেবে বর্ণনা করে রুশ সেনা ও ভাড়াটে ভাগনার বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
ক্রেমলিনের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,পুতিন বাখমুতকে স্বাধীন করার কথা বলেছেন। বাখমুতের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছে রাশিয়ার ভাড়াটে সেনাদল ভাগনার গ্রুপ। এ গ্রুপের নেতা ইয়েভজেনি প্রিগোশিন বলেছেন, শহরের শেষ সীমা পর্যন্ত ইউক্রেনের সেনাদের হটিয়েছে তাঁর বাহিনী। ওয়াশিংটন পৃথকভাবে ২২টি রাশিয়ার সহযোগী এবং ১০৪ টি রাশিয়ান সংস্থার উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক রাশিয়ান হীরা, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, টিন এবং নিকেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করেছেন। বাখমুত হারিয়ে আপাততঃ জেলেনস্কির প্রাপ্তী বলতে এগুলোই।

