মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

জি সেভেন বৈঠকে এবার চেয়ার সংখ্যা ১৬ তে উন্নীত, কিন্তু কেনো এবার উদারতা ধনী সাতের?

,আল জাজিরার বিশ্লেষন অবলম্বনে।। জি- ৭ বর্তমানে সাত দেশ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি “অ-গণনাকৃত সদস্য” হিসাবে এই ফোরামে যুক্ত।তবে ফোরামটি বছরের পর বছর ধরে সদস্য নয় এমন দেশগুলিকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকে।যেমন ভারত, পোল্যান্ড এবং স্পেন।এরা মূলতঃ অতিথি হিসেবে যোগ দেয় নিদৃষ্ট কিছু অধিবেশনে।
কিন্তু এবারই প্রথম বিশ্বের মোট ১৬ টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তিন দিনের এই শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছে।যা কিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্লেষকদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। জি-৭ সদস্য এবং ইইউ ছাড়াও, ভারত, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং কোমোরোস এবং কুক দ্বীপপুঞ্জ থেকে নেতারা অংশ নিচ্ছেন
।কোমোরোস ও কুক দ্বীপপুন্জ দুটিও তাদের বর্তমান চেয়ার হিসাবে যথাক্রমে আফ্রিকান ইউনিয়ন এবং প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রশ্ন হলো হঠাৎ করে সাত ধনী দেশের এই ফোরাম এতো উদার হয়ে চেয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে রেকর্ড ১৬ তে নিয়ে এলো কেনো?বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্লেষকদের বিশ্লেষন থেকে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে আল জাজিরা।
সাপ্তাহিক স্লোগানও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরছে।বৈশ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় এটা বুঝতে কারোরই কষ্ট হয়না এই সম্প্রসারনের মূল লক্ষ্য রাশিয়া বিরোধী বৈশ্বিক একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন।সেটি সম্ভব না হলেও নূন্যতম রাশিয়াকে বৈশ্বিক চাপ প্রয়োগের একটি প্রয়াস।কেননা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশীর ভাগই চলমান সংঘাতে কোন পক্ষ নিতে আগ্রহী নয়। বিশ্লেষকদের মতে এটাই একমাত্র কারণ নয়।চীনকে বার্তা প্রদান ও গ্লোবাল সাউথকে নিজেদের পাশে পেতে চাওয়াও অন্যতম কারণ। একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরেও রাশিয়ার অর্থনৈতিক ভীতকে দূর্বল করতে ব্যর্থ পশ্চিমারা এই প্রক্রিয়ার শেষ চেষ্টা হিসেবে এই বৈঠককে কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে চেয়ার সংখ্যা ১৬তে উন্নীত করেছে।
জি-৭ দেশগুলির সাথে রাশিয়ার বাণিজ্য হ্রাস পেলেও, চীন, ভারত এবং তুরস্ক রাশিয়ান কয়লা, তেল এবং গ্যাসের বর্ধিত আমদানির মাধ্যমে পশ্চিমাদের লক্ষ্যকে ব্যাহত করেছে।রাশিয়ার অর্থনীতি ২০২২ সালে মাত্র ২.২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। যদিওজি-৭এখনও প্রভাবশালী।কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে এর অংশ ১৯৮০ এর দশকে প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে আজ ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে।যার অর্থ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে কেনা-কাটা ছাড়াই রাশিয়ার উপর স্ক্রু শক্ত করার ভালোই সুযোগ রয়েছে।টোকিওর কেইও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সাইউরি শিরাই আল জাজিরাকে বলেছেন,জাপানের প্রধানমন্ত্রী কিশিদা গ্লোবাল সাউথের কাছাকাছি যেতে চায় কারণ বর্তমানে রাশিয়া এবং চীন এর দিকে ঝুঁকে থাকা গ্লোবাল সাউথের দৃষ্টিভঙ্গি জি-৭থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন। অনেক উন্নয়নশীল এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশ প্রাকৃতিক সম্পদ রাশিয়া অথবা চীনের কাছ থেকে নেওয়ার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠ সংযোগ গড়ে উঠছে তাদের মধ্যে।আর এই কারণেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জি-৭-এর নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হওয়ার বেলায় খুব সতর্ক। গ্লোবাল সাউথ গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাদের মার্কেট শেয়ার বাড়ছে এবং তাদের জিডিপি শেয়ার (পিপিপি, ক্রয়ক্ষমতা সমতার উপর ভিত্তি করে) ৫০শতাংশের বেশি,শিরাই যোগ করেছেন।এদিকে জাপান বার্ধক্য পাচ্ছে এবং এর জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। কিছু পর্যবেক্ষক আশা করছেন যে এই বছরের G7 শীর্ষ সম্মেলন অতীতে অবহেলিত কণ্ঠস্বরগুলির জন্য একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ভূমিকার সূচনা করবে। এই সপ্তাহের শুরুর দিকে নিক্কেই এশিয়ার সাথে একটি সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন যে তিনি গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর এবং উদ্বেগকে প্রসারিত করতে শীর্ষ সম্মেলনটি ব্যবহার করবেন। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর ইয়ান হল বলেছেন, জি-৭ এর বর্ধিত ফোকাস বহুপাক্ষিকতার বিস্তৃত সংকট প্রতিফলিত করে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন আমি মনে করি আউটরিচটি আসল গ্লোবাল সাউথ ভয়েসগুলি সর্বদা শোনা যায় না এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যাগুলিতে আমরা যদি কিছু এগিয়ে যেতে চাই তবে সেগুলি হওয়া দরকার। গ্লোবাল সাউথকে বিশ্বে একটি বৃহত্তর বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে জি-৭ এর আগ্রহ নিয়ে সমালোচকরা আরও সন্দিহান।শীর্ষ সম্মেলনের আগে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে, অক্সফাম বলেছে যে জি-৭  দেশগুলি জলবায়ু কর্মকাণ্ডের জন্য ১৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার অবৈতনিক সহায়তা এবং তহবিল বকেয়া থাকা সত্ত্বেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলি থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য প্রতিদিন ২৩২ মিলিয়ন ডলার দাবি করে চলেছে৷
ধনী জি-৭ দেশগুলি নিজেদেরকে ত্রাণকর্তা হিসাবে কাস্ট করতে পছন্দ করে কিন্তু তারা যা করছে তা একটি মারাত্মক ডাবল স্ট্যান্ডার্ড পরিচালনা করছে।তারা নিয়মের একটি সেট দ্বারা খেলে যখন তাদের প্রাক্তন উপনিবেশগুলি অন্যটি দ্বারা খেলতে বাধ্য হয়৷আমি যেভাবে বলি আমি যেমন করি তেমন নয়,বলেছেন অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার।

এই বিভাগের সব খবর

মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

মানবিক রাষ্ট্র গঠন এবং জনগণের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার...

সিএমপির পাঁচ থানায় ওসি পদে রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে রদবদল করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সিএমপি কমিশনার মো. হাসান শওকত আলীর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে...

রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জনপ্রশাসন কক্ষে রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা...

সর্বশেষ

মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

মানবিক রাষ্ট্র গঠন এবং জনগণের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে...

সিএমপির পাঁচ থানায় ওসি পদে রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)...

রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী...

বিমানের ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট ফের চালু হচ্ছে ২৭ জুলাই

দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আগামী...

বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক

নগরীর বাকলিয়ায় আলোচিত চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের মামলায়...

পেকুয়ায় বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং বাজার এলাকায় যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশা...