সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপিদলীয় টানা দুবারের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। আজ শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সিলেট রেজিস্ট্রারি মাঠে অনুষ্ঠিত নাগরিক সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
এর আগে নগরের কুমারপাড়ায় নিজ বাসভবন থেকে পদযাত্রা করে শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যান। এ সময় তাঁর সামনে দুই শতাধিক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। মেয়রের সঙ্গে পদযাত্রায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অংশ নিতে দেখা গেছে। মাজার জিয়ারত শেষে পদযাত্রা করে বেলা তিনটা ২২ মিনিটে তিনি রেজিস্ট্রারি মাঠে পৌঁছান।
সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর পর উপস্থিত জনতা হাততালি ও স্লোগান দিয়ে মেয়র আরিফুলকে স্বাগত জানান। এ সময় বিভিন্ন বয়সী মানুষ ‘আরিফুল হক চৌধুরীকে আবার মেয়র হিসেবে দেখতে চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
এর আগে ১ মে শ্রমিক দিবসের সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মেয়র আরিফুল আজ (২০ মে) প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিলেন। সেই হিসেবে তিনি আজ সিটি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সিলেট সিটি নির্বাচনের ভোট হবে আগামী ২১ জুন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৩ মে। মনোনয়নপত্র বাছাই ২৫ মে ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ জুন। ২ জুন প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
এসময় আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আর্দশে বিএনপির রাজনীতি শুরু করেছি। আমার জীবন থাকতে এই দলের ক্ষতি হয় এমন কোন সিদ্ধান্ত নেব না। ’
নিজেকে খালেদা জিয়ার সৈনিক দাবি করে সিলেট সিটির টানা দুবারের এই মেয়র বলেন, আমি সব সময় সিলেটবাসীর সঙ্গে আছি।
অনেকেই আমাকে উকিল আব্দুস সাত্তার বানানোর চেষ্টা করেছেন অভিযোগ করে আরিফ আরও বলেন, আমি সেই সুযোগ কাউকে দিতে চাই না। এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন করার পরিবেশ নেই। বিশেষ করে ইভিএম নিয়ে নগরের মানুষজন জানে না। এটা ভোট কারচুপির মহা আয়োজন।
সিলেটের মেয়র বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, আমার মা জননী ও আমার শ্রদ্ধেয় আলেম-উলামাদের পরার্মশে এই নির্বাচন বর্জন করলাম।
আরিফ বলেন, অতীতে আপনারা আমার পাশে ছিলেন। আমি কারাগারে থাকা অবস্থায় আপনারা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমি সেইসব কথা ভুলতে পারিনা।’

