ইউক্রেনকে মার্কিন তৈরি এফ-১৬ জেট ফাইটার ও পাইলট দের প্রশিক্ষন দেওয়ার মার্কিন ঘোষনার পরপরই ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জাপানের হিরোশিমায় অনুষ্ঠিতব্য জি সেভেন এর শীর্ষ বৈঠকে পৌঁছেছেন। এফ-১৬ জেট ফাইটার ও ইউক্রেনীয় পাইলটদের এফ-১৬ ফাইটার উড্ডয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বাইডেনের সিদ্ধান্তকে “ঐতিহাসিক” হিসাবে স্বাগত জানানোর পরপরই জাপানে তার বিস্ময়কর উপস্থিতি ঘটে।একাধিক মিডিয়া আউটলেট দ্বারা সম্প্রচারিত লাইভ ফুটেজে জেলেনস্কিকে একটি ফরাসি সরকারি বিমান থেকে নামতে দেখা গেছে। শুক্রবার শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধন করে, জি-৭ নেতারা বলেছিলেন যে তারা সার্বভৌম রাষ্ট্র ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসন যাতে ব্যর্থ হয় তা নিশ্চিত করতে নতুন পদক্ষেপ নেবে। যদিও কিছুদিন আগেও বাইডেন প্রশাসন কার্যকরভাবে এফ-১৬ এর স্থানান্তরকে নাকচ করে দিয়েছিল।মার্কিন কর্মকর্তারা তখন এটিকে রাশিয়ার সাথে বিরোধ বৃদ্ধির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছিলেন।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান জোর দিয়ে বলেছেন যে মার্কিন নীতিতে কোনো ইউ-টার্ন ছিল না।আমরা এমন এক মুহুর্তে পৌঁছেছি যেখানে রাস্তার দিকে তাকানোর এবং বলার সময় এসেছে ইউক্রেনের কী দরকার?রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে ও দেশকে রক্ষা করতে সক্ষম হতে? এফ-১৬ চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সেই মিশ্রণের অংশ। সুলিভান শনিবার সাংবাদিকদের বলেছেন।আমরা ইউক্রেনকে তার সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সমর্থন করার জন্য যথাসাধ্য করতে যাচ্ছি এবং আমরা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়ানোর উপায়ের দিকে এগিয়ে যাবো সুলিভান যোগ করেছেন। জি সেভেন এর শীর্ষ বৈঠকের দ্বিতীয় দিনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো,চীনকে কৌশলী হুমকি প্রদান।কুটনৈতিক ভাষায় যদিও এটিকে চাপ প্রয়োগ বলা হচ্ছে কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ এটিকে জি সেভেন বৈঠকের সেকেন্ড এজেন্ডা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। জি সেভেন সদস্যরা বলেন যে তারা তাদের জাতীয় স্বার্থে কাজ করার সময় চীনের সাথে গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রস্তুত। যদিও চীন এই বৈঠক গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করছে।এরই মধ্যে জাপানে চীনের দূতাবাস বলেছে যে তারাজি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে নেতিবাচক চীন-সম্পর্কিত পদক্ষেপের সাম্প্রতিক লক্ষণগুলির জন্য গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
জি সেভেন নেতারা ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়াকে চাপ দিতে চীনের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তাইওয়ানের স্বায়ত্বশাসনকে সম্মান দিতেও চীনকে নসিহত করেছেন। একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে,আমরা চীনকে তার সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং অবিলম্বে, সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে ইউক্রেন থেকে তার সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য রাশিয়াকে চাপ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। একই বিবৃতিতে আমরা চীনকে তাইওয়ান প্রশ্নে আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতিসংঘ সনদের নীতি ও উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে একটি ব্যাপক, ন্যায্য এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য উৎসাহিত করছি উল্লেখ করা হয়।
জি সেভেন নেতারা পূর্ব এবং দক্ষিণ চীন সমুদ্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।যেখানে বেইজিং তার সামরিক উপস্থিতি প্রসারিত করছে এবং স্ব-শাসিত তাইওয়ানের উপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগের জন্য শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিচ্ছে।তারা তাইওয়ানের কাছে চীনের দাবির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে।যা ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্টরা চীনা মূল ভূখণ্ডে ক্ষমতা লাভ করার পর থেকে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সম্মেলন দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। সূত্র:-রয়টার্স, আল জাজিরা, বিবিসি ও এপি।

