আফ্রিকার আতংক বলে পরিচিত জঙ্গীগোষ্ঠী আল-শাবাবের জন্য আনা দুটো বড় অস্ত্রের চালান আটকে দিয়েছে সোমালিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (এনআইএসএ)।ভয়েস অফ আমেরিকাকে এনআইএসএর মুখপাত্র বলেছেন, তারা প্রচুর সামরিক সরঞ্জাম,অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং বিস্ফোরক সামগ্রী ভর্তি দুটি অবৈধ চালান আটক করেছে।এগুলো দৃশ্যত আল-শাবাব জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে পাঠানো হচ্ছিলো।
পরে রাজধানী মোগাদিসুতে এক সংবাদ সম্মেলনে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী হাগা বলেন,গোয়েন্দা সংস্থাটি মোগাদিসুর সমুদ্র বন্দর এবং বিমানবন্দরে অস্ত্রগুলো খুঁজে পেয়েছে। এনআইএসএ-এর বিবৃতিতে তাঁদের মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন অবৈধ অস্ত্রের চালান নিয়ে করা তদন্তের মাধ্যমে একটি চোরাচালান চক্রের সাথে যুক্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হাগা বা এনআইএসএ কারো পক্ষ থেকেই জব্দ করা চালানে কি ধরণের অস্ত্র রয়েছে বা সেগুলো কোথা থেকে এসেছে বা এর সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় সম্পর্কে বিশদ কিছু জানানো হয়নি।বলা হয়েছে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা সম্ভব না হলেও শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। সোমালিয়ার উপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা:- গৃহযুদ্ধ ও উপদলীয় সহিংসতার কারণে ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সোমালিয়ার ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
২০১২ সালে একটি কার্যকরী অন্তর্বর্তী-সরকার প্রতিষ্ঠার পর পরবর্তী সরকারগুলো দেশটিতে স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় পুনঃস্থাপনের জন্য কাজ করছে।যা কিনা দেশটির উপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সহায়তা করছে।২০১৩ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে এক বছরের জন্য সোমালিয়ার কাছে অস্ত্র বিক্রির নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নেয়ার পক্ষে ভোট দেয়। প্রস্তাবটিতে সোমালিয়ার সরকারকে তার নিরাপত্তা বাহিনীর উন্নয়নে এবং ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করার জন্য কিছু ক্ষুদ্র অস্ত্র কেনার অনুমতি দেয়।তবে ভারী অস্ত্রের ওপর বিধিনিষেধ বজায় রাখে।অবশিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলোর আওতায় কিছু বিশেষ ধরণের অস্ত্র সংগ্রহের জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।বাস্তবতা বিবেচনায় সেই অনুমতি দেওয়া হয় আর সেগুলো প্রতিবছর নবায়ন করা হয়। আল-শাবাব এই অঞ্চলে শান্তি এবং স্থিতিশীলতাকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে।আর এই কারণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা প্রয়োজন, দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এমন অনুরোধের পরে অস্ত্র সংগ্রহের অনুমোদন নবায়ন করা হয়।কেননা আল-শাবাব জঙ্গীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছিলো দিনদিন।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন ছিলো তাদের অমানবিক কর্মকান্ডে। সূত্র:-ভয়েস অফ আমেরিকা ও এপি।

