জি সেভেনের সদস্য ধনী গণতান্ত্রিক দেশগুলো, এই বছরের জি সেভেন শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে। আর, তাদেরকে এড়িয়ে যারা রাশিয়াকে সহায়তা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো,ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থায়নে মস্কোর ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করা।গতকাল ১৯শে মে জাপানের হিরোশিমা শহরে এই বৈঠক শুরু হয়েছে।
গণমাধ্যমে ব্রিফিং কালে বাইডেন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন,এই গ্রুপটি জাপানের হিরোশিমাতে অনুষ্ঠেয় এই বছরের বৈঠকে আরো শত শত নিষেধাজ্ঞা এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ ঘোষণা করবে। প্রথা অনুসারে প্রশাসনের এই কর্মকর্তার নাম জানানো হয়নি।এই কর্মকর্তা বলেন, কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাগুলোর আওতায় থাকছে ৭০টি রুশ ও তৃতীয় কোনো দেশের প্রতিষ্ঠান। যেগুলো মস্কোর প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত।এই নিষেধাজ্ঞাগুলো এর আগের ৩০০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, বিমান ও জাহাজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বাইরে।অন্য জি-সেভেন দেশগুলোও এ সপ্তাহে তাদের আলাদা আলাদা পদক্ষেপ ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এই কর্মকর্তা জানান, পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে; যুদ্ধের জন্য সরঞ্জাম এবং রসদ সংগ্রহ সংক্রান্ত রাশিয়ার সক্ষমতাকে আরো ব্যাহত করা,নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ফাঁকগুলো বন্ধ করার জন্য কাজ করা এবং রাশিয়ার জ্বালানির ওপর ইউরোপের নির্ভরতা হ্রাসের জন্য পদক্ষেপ নেয়া।এছাড়া আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় রাশিয়ার প্রবেশাধিকার সীমিত করার জন্য আরো প্রচেষ্টা চালাবে জি-সেভেন।এবং রাশিয়ার একক মালিকানার সম্পদ জব্দ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করবে।
এই কর্মকর্তা বলেছেন,মূল কথা হলো, আমরা রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করছি।তিনি আরো বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি শীর্ষ সম্মেলনে জি সেভেন নেতাদের সাথে যে কোনো ভাবেই যুক্ত হবেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী শুক্রবার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জি সেভেন নেতারা বলেছেন,ইউক্রেনের প্রতি আমাদের সমর্থন নড়বে না।তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বেআইনি,অযৌক্তিক এবং উস্কানিবিহীন চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাঁরা সাত দেশ একসাথে দাঁড়াবে ইউক্রেনের পাশে।তাঁদের মতে, রাশিয়া এই যুদ্ধ শুরু করেছে এবং এই যুদ্ধ শেষ করতে পারে।
জি সেভেন নেতাদের দ্বারা জারি করা একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে বিধিনিষেধগুলি রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টার জন্য দরকারী শিল্প যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তির রপ্তানিকে কভার করবে।এবং ধাতু ও হীরার বাণিজ্য থেকে রাশিয়ার রাজস্ব সীমিত করার প্রচেষ্টা চালানো হবে। জি সেভেন এর সদস্য দেশগুলো হলো; যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সূত্র:-রয়টার্স, আল জাজিরা,বিবিসি ও ভয়েস অফ আমেরিকা।

