আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকা তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান আখুন্দের অসুস্থতার খবর মিডিয়ার কল্যানে ইতিমধ্যে বিশ্ববাসী জেনে গেছে।বিকল্প হিসেবে নেতৃত্বে কে আসেন সেটিই ছিলো আলোচনায়।অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটলো। আফগানিস্তানের তালেবান বুধবার নিশ্চিত করেছে যে তারা দৈনন্দিন বিষয়গুলি তদারকি করার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেছে।তিনি হলেন, তালেবান সরকারের রাজনীতি বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা আব্দুল কবির।পদোন্নতি দিয়ে তাঁকে তত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,কোন নারী সদস্য বিহীন তালেবান মন্ত্রীসভার প্রধান হলেন আবদুল কবির।যাঁর আরেকটি পরিচয় হলো,কট্টরপন্থী তালেবান সরকারের মন্ত্রীসভা ও দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার মতো তিনিও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার অধীনে আছেন।এবং তিনি কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কালো তালিকাভুক্ত। তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ টুইটারে ক্ষমতা পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন,৭৮ বছর বয়সী আখুন্দ, কিছু সময়ের জন্য দক্ষিণের শহর কান্দাহারে চিকিৎসা ও বিশ্রামের জন্য আছেন এবং তিনি তার দায়িত্ব পুনরায় শুরু করতে শীঘ্রই কাবুলে ফিরে আসবেন।
মুজাহিদ লিখেছেন, “প্রশাসনিক কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য একজন তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করা শাসন প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক বিষয়। এটি নিয়ে কারও চিন্তা করার দরকার নেই, অপপ্রচারের জন্য এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।”এখানে অপপ্রচার বলতে তিনি বুঝিয়েছেন,আন্তর্জাতিক কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিলো যে,নিয়মিত প্রধানমন্ত্রী আখন্দ আসলে অসুস্থ নন,তিনি অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারণে পদত্যাগ করেছেন।
২০২১সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো সৈন্যরা দুই দশক ধরে যুদ্ধে জড়িত থাকার পর আফগানিস্তান ত্যাগ করার পরে তালেবান ঐ বছরের আগষ্টে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন হয়।তালিবান পরবর্তীকালে একটি অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা করে এবং আখুন্দকে তার প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করে। জাতিসংঘ সহ অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার নিষেধাজ্ঞা নিয়েই তাঁরা আফগানিস্তানের শাসনকাজ পরিচালনা করে চলেছেন।তা নিজেদের কট্টরপন্থী আদর্শ মোতাবেকই। সূত্র:- বিবিসি ও ভয়েস অফ আমেরিকা।

