বহুল আলোচিত তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধী বিরোধী জোটের প্রার্থী কিলিকদারোগলু থেকে ২৬ মিলিয়ন ভোট বেশী পেয়েও সে দেশের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় নির্বাচিত হতে পারেননি এরদোয়ান।তাই নিয়ম অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট পদে দ্বিতীয় দফা ভোট বা রান অফ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী ২৮শে মে।আর এই রান অফে রীতিমতো কিংমেকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন এটিএ জোট সমর্থিত জাতীয়তাবাদী প্রার্থী ও প্রথম দফা নির্বাচনে ৫.১৭শতাংশ ভোট পাওয়া সিনান ওগান। ২৮ শে মে রান অফে তাঁর সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ফল আসার বেশী সম্ভাবনা থাকায় ইতিমধ্যে দুই শিবিরের লক্ষ্যই এখন তিনি।ইতিমধ্যে দুই পক্ষ থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের কথা নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এপি।
আগামী কয়েকদিন ওগানের সাথে প্রধান দুই প্রার্থীর মধ্যে আরও ব্যাপক আলোচনা ও দেনদরবার দেখতে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। “এই মুহুর্তে আমরা বলছি না যে আমরা অমুক প্রার্থীকে সমর্থন করব,”।সোমবারের প্রথম দিকে ৫৫ বছর বয়সী ওগান মিডিয়াকে বলেছিলেন।তিনি আরও বলেছিলেন,যারা সন্ত্রাসবাদ থেকে নিজেদের দূরে রাখে না তাদের আমাদের কাছে আসা উচিত নয়।প্রথম থেকেই মনে হচ্ছিল যে নির্বাচন দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে এবং তুর্কি জাতীয়তাবাদী এবং কামালবাদীরাই দ্বিতীয় রাউন্ড নির্ধারণ করবে, তিনি বলেছিলেন। এখানে “সন্ত্রাসবাদ” সম্পর্কে ওগানের উল্লেখ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত ছিলো।তুর্কি জাতীয়তাবাদীদের দৃষ্টিতে, এরদোয়ান এবং কিলিকদারোগলু উভয়েরই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। কিলিকদারোগ্লুর প্রার্থীতা পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (এইচডিপি) দ্বারা সমর্থিত ছিল, যা তুরস্কের বৃহত্তর কুর্দি আন্দোলন থেকে উদ্ভূত।তুর্কি জাতীয়তাবাদীদের চোখে ওটা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) রাজনৈতিক শয্যাসঙ্গী হিসাবে বিবেচিত হয়। পিকেকে তুর্কি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৩৯ বছরের অভিযান চালিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। এটি তুরস্ক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্বারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এদিকে এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) প্রধানত কুর্দি রাজনৈতিক ইসলামপন্থী দল হুদা-পার থেকে সমর্থন পেয়েছে।একে পার্টির প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে সংসদে নির্বাচিতও হয়েছেন তিন হুদা-পার রাজনীতিবিদ।
হুদা-পারের হিজবুল্লাহর সাথে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।একটি কুর্দি গোষ্ঠী যেটি ১৯৯০ এর দশকে পিকেকে-এর সাথে লড়াই করার সময় তুর্কি পুলিশ অফিসারদের লক্ষ্য করে সহিংস একটি নৃশংস অভিযান চালায়। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে সিনান ওগানের সমর্থন শেষ পর্যন্ত এরদোয়ানই পাবেন।কেননা রাজনৈতিক মত ভিন্নতায় সিনান ওগানের দলের সাথে এরদোয়ানের চেয়ে কিলিকদারোগলুর দূরত্ব বেশী।
তাছাড়া প্রথম দফায় ২৬ মিলিয়ন ভোট বেশী পাওয়া তুরষ্কের জনগণের বড় অংশের নিকট তাঁর গ্রহণযোগ্যতাই প্রমান করেছে।বৃহত্তর অংশের সাথে মিশে যাওয়াই সিনান ওগানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে বিশ্বাস করে তাঁর দলের নেতাকর্মীদের প্রায় সকলেই।তারপরও নেপথ্যের আন্তর্জাতিক চাপ সামলে সিনান ওগানের সমর্থন ঘোষণা জানতে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। সূত্র:- আল জাজিরা ও এপি

