গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮৮৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা হয়েছে।মাদক অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি।
মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চীনে চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।হাজার হাজার লোককে গত বছর মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে।চীনে ২০২১সালের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে মৃত্যুদন্ড, অ্যামনেস্টি মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহারের বিষয়ে তার বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে। চীনের বাইরে বিশ্বের ৯০ শতাংশ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার মাত্র তিনটি দেশে।আ্যামনেষ্টি বলেছে। ইরান গত বছর ৫৭৬ জনকে ২০২১ সালে ছিলো ৩১৪জন,সৌদি আরবে ১৯৬ জনকে ২০২১ সালে ছিলো ৬৫ জন, এবং মিশর 24 জনকে গতবছর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। অ্যামনেস্টি উল্লেখ করেছে যে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, “মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
তারা ২০২২ সালে যে সকল মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে,তা মানব জীবনের জন্য একটি নির্মম অবহেলা প্রকাশ করেছে।যা কোনভাবেই কাম্য নয়। সমস্ত অঞ্চলে জীবন থেকে বঞ্চিত ব্যক্তির সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। সৌদি আরবে এক দিনে ৮১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।অতি সম্প্রতি, জনপ্রিয় অভ্যুত্থানের অবসান ঘটাতে মরিয়া প্রচেষ্টায় ইরান কেবল তাদের প্রতিবাদ করার অধিকার প্রয়োগ করার জন্য মানুষকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। মোট ২০টি দেশ গত বছর মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।বিশেষ পাঁচটি দেশ গত বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।যার মধ্যে মিয়ানমারের সামরিক শাসক গত জুলাইয়ে ১৯৮০ সালের পর প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার মাধ্যমে চার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসি দিয়ে বিশ্বকে রীতিমতো চমকে দিয়েছিল। অ্যামনেস্টি উল্লেখ করেছে যে গত বছর সম্পাদিত সমস্ত মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ ছিল মাদক সংক্রান্ত অপরাধের জন্য।তন্মধ্যে ইরানে ২৫৫ জন,সৌদি আরবে ৫৭ জন এবং সিঙ্গাপুরে ১১ জনের মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়েছিল মাদক অপরাধে!চীন এবং ভিয়েতনামে মাদক অপরাধের জন্যও সম্ভবত লোকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।যেখানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা বজায় রেখে করা হয় বলে জানায় আ্যামনেষ্টি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে যেসব দেশ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে তাদের শুধুমাত্র ‘সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের’ জন্য মৃত্যুদন্ড ব্যবহার করার কথা।যা কেবল ইচ্ছাকৃত হত্যার সাথে জড়িত প্রমানীত হওয়া অপরাধীদের বেলায়। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ঐ সকল দেশের সরকারের এই নির্মম মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের উপর চাপ বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ক্যালামার্ড। ছয়টি দেশ – কাজাখস্তান, পাপুয়া নিউ গিনি, সিয়েরা লিওন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, নিরক্ষীয় গিনি এবং জাম্বিয়া – মৃত্যুদণ্ড সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল করেছে বলে নিশ্চিত করেছে আ্যামনেষ্টি। লাইবেরিয়া এবং ঘানা মৃত্যুদণ্ড রহিত করার জন্য আইনী পদক্ষেপ নিয়েছে।আর শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের কর্তৃপক্ষ বলেছে যে তারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার উপায় অবলম্বন করবে না।মালয়েশিয়াও বাধ্যতামূলক মৃত্যুদন্ড বাতিল করতে চলেছে বলে জানা গেছে। যেহেতু অনেক দেশই মৃত্যুদণ্ডকে ইতিহাসের ডাস্টবিনে জমা করে চলেছে, অন্যদেরও তা অনুসরণ করার সময় এসেছে। ইরান, সৌদি আরবের পাশাপাশি চীন, উত্তর কোরিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর নৃশংস এই কর্মকাণ্ড এখনও দৃঢ়ভাবে বহাল রয়েছে।এই দেশগুলিকে জরুরীভাবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা উচিত, মানবাধিকার রক্ষা করা উচিত এবং মানুষের ন্যায়বিচার কার্যকর করা উচিত।আ্যামনেষ্টির হয়ে ক্যালামার্ড বলছিলেন। সূত্র:-আল জাজিরা ও এপি।

