এখনো সম্ভাবনা কার্যতঃ শেষ হয়ে যায়নি।যেহেতু প্রবাসী ব্যালট গোনা বাকি ছিলো এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত। আর এরদোয়ানও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষনে কয়েকবার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।কেননা গত নির্বাচনে প্রবাসীদের ৬৬ শতাংশের সমর্থন পেয়েছিলেন এরদোয়ান। তবুও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে অল্পের জন্য এই দফায় প্রয়োজনীয় ৫০শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হবেন তিনি।আর তাই ২৮শে মে রান অফেই ফায়সালা হবে কে হচ্ছেন তুরস্কের আগামী প্রেসিডেন্ট।এরদোয়ানের জন্য আশার কথা হচ্ছে পার্লামেন্টে তাঁর দলের এমপিদের জয়জয়কার।ঐতিহাসিক ভাবেই তুর্কিরা দ্বিমুখী ক্ষমতায়ন পছন্দ করেনা।গতকাল ভোট গননা শুরু হবার পর থেকেই এরদোয়ান ৫০শতাংশ ধরে এগুচ্ছিলেন।কিন্তু সময় যতো শেষ দিকে আসতে থাকে ততোই বিরোধী জোটের প্রার্থী ভোট বাড়তে থাকে।এমনকি আল জাজিরা দেখাচ্ছিলো, মোট ভোটের ৯০ শতাংশের গননা শেষ হওয়ার সময়ও এরদোয়ান ৫০.২ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন।কিন্তু বিশ্লেষকরা আশংকা করছিলেন,শেষ পর্যন্ত এরদোয়ান ৫০ শতাংশের নীচে নেমে যাবেন।শেষ পর্যন্ত হয়েছে তাই।৪৯.৬ নিয়ে শেষ করেছেন তিনি।যদিও নির্বাচন কমিশন থেকে এখনও কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে ৩.৪ মিলিয়ন প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্যালটগুলি এখনও গননা করতে হবে এবং ২8 মে রান অফ নির্বাচন নিশ্চিত হয়নি।অবশ্য নির্বাচনের আগে সব কয়টি জরিপে এরদোয়ানকে পিছিয়ে রেখেছিলো।এমনকও সংসদীয় আসনেও ভরাডুবির কথা বলা হয়েছিল।বলাই বাহুল্য তুর্কি ভোটাররা জরিপকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ভুল প্রমান করে দিয়েছেন। নিউইয়র্কের সেন্ট লরেন্স ইউনিভার্সিটির মধ্য প্রাচ্যের ইতিহাস ও রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক হাওয়ার্ড ইজেনস্ট্যাট বলেন, রোববার সংসদীয় নির্বাচনে রাষ্ট্রপতির দলের আরও ভালো করার সম্ভাবনা ছিল বলে জানান।ভোটাররা একটি “বিভক্ত সরকার” চায় না তিনি বলেন।তিনি রান-অফে এরদোয়ান বড়ো ব্যবধানে জিতে আসবেন বলেই মনে করেন।
এরদোয়ান ২০০৩ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট হিসাবে তুরস্ককে পরিচালনা করেছেন। নির্বাচনে রান-অফের মধ্যে, মতামত জরিপটি ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী নেতা তার চ্যালেঞ্জারকে সংকীর্ণ করে তুলেছে। এরদোয়ান তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন,আমরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কিলিকদারোগ্লু থেকে অনেক দূরে আছি।যদিও তিনি প্রথম রাউন্ডে তার বিজয় নিশ্চিত নন। আঙ্কারার তার দলের সদর দফতরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এরদোয়ান বলেন, তিনি ২৬ কোটি ভোট পেয়েছেন। আমাদের রাজনৈতিক জীবন জুড়ে, ব্যতিক্রম ছাড়া, আমরা সর্বদা জাতীয় ইচ্ছার সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছি। আমরা এই নির্বাচনে এটিকে সম্মান করি এবং আগামী নির্বাচনে আমরা এটিকে সম্মান করব,বলেছেন তিনি। এরদোগান আরও বলেন,আমরা বিশ্বাস করি আমরা প্রথম রাউন্ডে জিতব। কিলিকদরোগ্লু কোন রান-অফ নির্বাচনে জয়লাভের অঙ্গীকার করেছে কেমাল কিলিকদারোগ্লু ২8 মে তারিখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে চলতে থাকলে তিনি জিতবেন।যদি আমাদের জাতি দ্বিতীয় রাউন্ডে বলে, আমরা একেবারে দ্বিতীয় রাউন্ডে জিতব,তিনি সাংবাদিকদের বলেন। আসলে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যদি রান আপের দিকেই যায়,তাহলে এর মূল নায়ক হবেন সিনান ওগান।যিনি এই রাউন্ডে ৫.২শতাংশ ভোট পেয়েছেন।যা সত্যিকারের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে বলে অভিমত আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের। সূত্র:-আল জাজিরা,সিএনএন,বিবিসি ও এপি।
