পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে শুক্রবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট দুই সপ্তাহের জন্য জামিন দিয়েছেন।একই সাথে আগামী ১৭ই মে পর্যন্ত অন্যকোন মামলায় তাঁকে গ্রেফতার বা হয়রানী না করার নির্দেশ দিয়েছেন।জামিন পেয়ে চারদিন পর নিজের বাসায় ফিরে গেছেন তিনি। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট চত্বর থেকে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করার পর পুরো পাকিস্তান জুড়ে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।পরে সুপ্রিমকোর্ট তার গ্রেপ্তারকে অবৈধ ঘোষণা করে।গত মঙ্গলবার আধা-সামরিক বাহিনী ইমরান খানকে জোর করে আদালতে নিয়ে যায় এবং তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। সুপ্রিম কোর্ট পরে এই গ্রেপ্তারকে বেআইনি ঘোষণা করে এবং এই প্রক্রিয়াকে প্রত্যাহারের (ব্যাকট্র্যাকড) দাবি জানায়।
শুক্রবার একটি নিরাপদ মোটর বহরে করে আবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আসেন ইমরান খান। এ সময় কয়েক ডজন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য তাকে আদালত ভবনে হাঁটিয়ে নিয়ে যান। এর পর তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। শুনানির আগে আদালতের সামনে জড়ো হন পিটিআই আইনজীবীরা। এ সময় তারা, “খান, আপনার ভক্ত অগণিত” এবং “আইনজীবীরা বেঁচে আছেন” বলে চিৎকার করছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত এই নেতা তখন তার মুষ্টিবদ্ধ হাত মাথার ওপর তুলে ধরেন।পরে তিনি অবিলম্বে আটক দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবী জানান। তবে মনে হচ্ছে, এই আইনি অধ্যায় শেষ হতে এখনো অনেক সময় বাকি রয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইমরান খানকে পুনরায় গ্রেপ্তার করার অঙ্গীকার করেছেন।জামিনের রায় শুনে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ আদালতের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। ইমরান খান বেশ কয়েকটি মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন, যা পাকিস্তানের বিরোধী দলের নেতাদের জন্য একটা চলমান সমস্যা। তিনি গত এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবং সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু করলে, তিনি এসব মামলায় জড়িয়ে পড়েন। অক্টোবরের আগেই সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা।
এই সাবেক ক্রিকেট তারকা নড়বড়ে ক্ষমতাসীন জোট সরকারের বিরুদ্ধে, শীর্ষ জেনারেলদের সাথে যোগসাজশ করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন।এবং এটা এখন পাকিস্তানের জনগন মন থেকে বিশ্বাস করে। জরিপের ফল অনুযায়ী পাকিস্তানের ইতিহাসে ইমরান খানের চেয়ে জনপ্রিয় কোন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না।আর আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারলে তা়ঁর দলই পুনরায় ক্ষমতায় আসার কথা।অতএব আগামীদিনে তাঁকে নিয়ে অনেক খেলা হবে তা সহজেই অনুমেয়। সূত্র:- আল জাজিরা ও ভয়েস অফ আমেরিকা।
