ধর্ম অবমাননার দায়ে দণ্ডিত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগের নিউজ সাইট মিজান তাদের নাম ইউসেফ মেহরদাদ এবং সদরুল্লাহ ফাজেলি জারে বলে শনাক্ত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের অপরাধের মধ্যে রয়েছে, ইসলাম এবং নবীকে অবমাননা করা।এছাড়া, তারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে এবং নাস্তিকতা প্রচার করতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছে।
গত বছর জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞ ইরানে ধর্ম অবমানাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা, “বৈষম্য ছাড়া ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করতে অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য” ইরানের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানে ধর্ম অবমাননাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গন্য করা হয়। সূত্র:- এপি ও ভয়েস অফ আমেরিকা।

পাকিস্তানে সন্দেহভাজন একজনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা:- রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে শনিবার ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক আলেমকে পিটিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। জনতার অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তাঁর বক্তৃতায় ধর্ম অবমাননারকর কথা বলেছিলেন। পাকিস্তানের পুলিশ একথা জানিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল খান বলেছেন, মাওলানা নিগার আলম (৪০) কে হত্যা করা হয়েছে, কারণ “তার প্রার্থনার কিছু কিছু শব্দকে কিছু বিক্ষোভকারী নিন্দাজনক বলে মনে করেছিল, এবং সেই কারণেই বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে নির্যাতিত হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান।”
পুলিশ মাওলানা নিগার আলমকে জনতার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য একটি দোকানে তালাবদ্ধ করে রাখে।কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি, উত্তেজিত জনতা ওই দোকানের দরজা ভেঙে তাকে বের করে আনে। ইকবাল খান পাকিস্তানি ওয়েবসাইট ডনকে বলেন, উত্তরের শহর মার্ডেনে জনতার হামলায় মাওলানা আলম মারা যান। ধর্ম অবমাননার বিষয়টি প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত পাকিস্তানে একটি অতি সংবেদনশীল বিষয় এবং এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক অধিকার গোষ্ঠীগুলি বলে আসছে যে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগগুলি জনতার আক্রমণ এবং অভিযুক্তদের হত্যার জন্য যথেষ্ট। ধর্ম অবমাননার আইন কখনও কখনও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও বিরোধ নিষ্পত্তি করতে এবং পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর জন্যও ব্যবহার করা হয়। সূত্র:-রয়টার্স ও এপি।

