বলিভিয়ার জেনারেল গ্যারি প্রাডো স্যালমন, যিনি ১৯৬৭ সালে কমিউনিস্ট বিপ্লবী তথা পৃথিবীতে বিপ্লবের আইকন আর্নেস্টো “চে” গুয়েভারাকে বন্দী করে অনেকের কাছে নেতিবাচক ইতিহাসের অংশ হয়ে আছেন,সেই প্রাডো সালমান গত ৬ ই মে শনিবার ৮৪ বছর বয়সে মারা গেছেন।তার ছেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় গতকাল একথা প্রকাশ করেছেন।খবর আল জাজিরা ও বিবিসির। প্রাডো সালমন মূলতঃ ঐ সময়ে বলিভিয়ায়৷ মার্কিন সমর্থিত একটি সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দেন যাঁর লক্ষ্য ছিলো আর্জেন্টিনার কমিউনিস্ট বিপ্লবী চে কে বন্দী করা।
বিপ্লবী চে ঐ সময় বলিভিয়ায় আত্মগোপনে ছিলেন। প্রাডো সালমন ৮ই অক্টোবর ১৯৬৭ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম বলিভিয়ার একটি টহলের দায়িত্বে ছিলেন।তিনি কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সামরিক অভিযানের সময় সেদিন আহতও হয়েছিলেন।একদিন পরে তথা ৯ই অক্টোবর বলিভিয়ার সামরিক বাহিনী চে গুয়েভারাকে মৃত্যুদন্ড দেয়। যিনি কিউবার কমিউনিস্ট বিপ্লবের সময় ফিদেল কাস্ত্রোর পাশাপাশি নিজের নাম পৃথিবী জুড়ে বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনে কমিউনিস্টদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের আশঙ্কায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকায় বামপন্থী কর্মী ও দলগুলোকে দমনের লক্ষ্যে কাজ করছিল।সেই সময় ইউএসএসআর-এর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য কিউবা এখনও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে।যদিও প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ৫০ বছর পর ২০১৫ সালে কিউবার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন কিন্তু তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে এই পদক্ষেপটি উল্টে দিয়েছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায় এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে, প্রাডো সালমন স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সেই সময়কার বলিভিয়ার পার্লামেন্ট প্রাডো সালমানকে চে গুয়েভারার গ্রেফতারে তার ভূমিকার জন্য জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে।সে সময় লাতিন আমেরিকার দেশটির ওপর সামরিক শাসন ছিল।কমিউনিস্ট দমনে সেই সময় সিআইএ বলিভিয়ার সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষন,অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে ব্যাপক ভাবে সাহায্য করেছিলো।
যদিও সময়ের ব্যবধানে বলিভিয়ার সেই মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সামরিক সরকারের পতন হয় আর চে গুয়েভারা বলিভিয়ার মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। ২০১৭ সালে লাখো বলিভিয়ান বিপ্লবীর মৃত্যুর ৫০ তম বার্ষিকী স্মরণে জড়ো হয়েছিল।বলিভিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস বলেন, “চে-এর মৃত্যুবার্ষিকীকে স্মরণ করা মানে মর্যাদা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে স্মরণ করা।” ১৯৮১ সালে দুর্ঘটনাক্রমে মেরুদণ্ডে গুলি লেগে প্রাডো সালমন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি ১৯৮৮ সালে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।চে গুয়েভারাকে আটক করে সে অনুতপ্ত ছিলেন বলে জীবদ্দশায় জানিয়েছিলেন। সূত্র:- আল জাজিরা ও বিবিসি।

