ভারতের প্রত্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জাতিগত সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে শনিবার ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে।শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষ সেনা মোতায়েন করা সত্ত্বেও শনিবার রাতে নতুন সহিংসতা শুরু হয়।
বুধবার একটি উপজাতি গোষ্ঠীর বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে মনিপুর সহিংস হয়ে উঠলে,কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে মণিপুর রাজ্যে হাজার হাজার সৈন্য পাঠানো হয়।অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে এবং চরম ক্ষেত্রে গুলি চালানোর আদেশ জারি করেছে।ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সেখানকার আসল অবস্থা জানতে সংবাদকর্মীদের যথেষ্ট বেগ পোহাতে হচ্ছে।খবর ভয়েস অফ আমেরিকার। দাঙ্গাকারীরা থানা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করেছে বলে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।তিনি বলেন,সতর্কতা জারি করার কয়েক ঘন্টা পর, শুক্রবার রাতে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়।
এখনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজ্যের রাজধানী ইম্ফল এবং দক্ষিণের চুড়াচাঁদপুর জেলার হাসপাতাল মর্গে মোট ৬৪ জনের মৃতদেহ রয়েছে। প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, চুড়াচাঁদপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে ১৬টি এবং ইম্ফল পূর্ব জেলার জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস-এ ১৫টি মৃতদেহ রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া বলেছে, ইম্ফল পশ্চিম জেলার ল্যাম্পেলের রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস ২৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। মণিপুরের পুলিশ মহাপরিচালক পি ডুঙ্গেল শুক্রবার সংবাদদাতাদের বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর টহল দল “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, কিছু থানা “দুর্বৃত্তরা” দখল করে, সেখান থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করেছে। লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য জনসাধারণের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী এবং মণিপুর সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ সপ্তাহের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। ভারতের আইনমন্ত্রী কিরেন রিজিজু শনিবার সংবাদদাতাদের বলেন, কয়েক দিনের সংঘর্ষে সম্পতি ধংস হওয়ার পাশাপাশি বেশকিছু প্রাণহানি হয়েছে।ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়ায়, মণিপুর থেকে তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে সংঘর্ষের বিশদ বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবেশী নাগাল্যান্ড রাজ্যে অবস্থিত ভারতের সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট জানিয়েছে, সহিংসতা থেকে বাঁচতে ১৩ হাজার মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা শনিবার জানিয়েছেন, সড়ক ও আকাশপথে ঐ রাজ্যে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায় দাবি করছে যে তাদেরকে সরকারের “তফসিলি উপজাতি” শ্রেণীতে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
তাদের এই দাবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো। ভারতের আইন অনুযায়ী , তফসিলি ভুক্ত উপজাতিদের চাকরি ও কলেজে ভর্তির জন্য কোটা সুবিধা দেয়া হয়।এটা হলো কাঠামোগত অসাম্য ও বৈষম্য নিরসনে তাদের প্রতি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। মণিপুর ভারতের প্রত্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অংশ।একটি সংকীর্ণ স্থল করিডর দিয়ে দেশের বাকি অংশের সাথে যুক্ত এই অঞ্চলে, জাতিগোষ্ঠী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতায় কয়েক দশক ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ভারতের এই উত্তর-পূর্বাঞ্চল কয়েক ডজন উপজাতি ও গেরিলা গোষ্ঠীর আবাসস্থল। তারা অধিকতর স্বায়ত্ব শাসন থেকে শুরু করে ভারত থেকে আলাদা হওয়ার জন্য দাবি করে আসছে।
সূত্র:-ভয়েস অফ আমেরিকা ও হিন্দুস্তান টাইমস।

