আজ ৩রা মে বুধবার রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির বাসভবন ক্রেমলিনে ড্রোন হামলা চালানোর গুরুতর অভিযোগ করেছে রাশিয়া।আর এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করেছে রাশিয়া।জবাবে প্রতিশোধের তাৎক্ষণিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে রাশিয়ার পক্ষ থেকে। মস্কোতে কথিত হামলাকে পুতিনের জীবননাশের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
রাশিয়া অভিযোগ করেছে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে হত্যার লক্ষ্যে ক্রেমলিনে রাতারাতি ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে।বুধবার রাশিয়ার সরকার এই অভিযোগ করেছে বলে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।যদিও রাশিয়ান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,সেই হামলায় পুতিন আহত হননি বা ক্রেমলিন ভবনের কোন বত্তুগত ক্ষতি হয়নি।রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরআইএ এর ভাষ্যমতে রাষ্ট্রপতি তখন ক্রেমলিনে ছিলেন না এবং বুধবার মস্কোর বাইরে তার নভো ওগারিওভো বাসভবনে কাজ করছিলেন।
এদিকে ক্রেমলিন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সতর্ক করেছে যে রাশিয়া প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে এবং তারা কথিত হামলাটিকে “সন্ত্রাসী” আক্রমণ হিসাবে দেখে।তাঁরা মনেকরে ৯ই মে বিজয় দিবসের আগে প্রেসিডেন্টকে হত্যার একটি প্রচেষ্টা এই হামলা।উল্লেখ্য,প্রতি বছর ৯ই মে নাৎসীদের বিরুদ্ধে বিজয়ের দিন হিসেবে রাশিয়া বেশ ঘটা করে বিজয় দিবস পালন করে থাকে। ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ এখনও অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। যদিও ক্রেমলিন অভিযোগের পক্ষে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।তাঁদের বিবৃতিতে কিছু বিবরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। সামরিক সংবাদ আউটলেট জেভেজদা চ্যানেল সহ রাশিয়ান সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচারিত একটি অযাচাই করা ভিডিওতে কথিত ঘটনার পরে প্রাচীর ঘেরা দুর্গে প্রধান ক্রেমলিন প্রাসাদের পিছনে ফ্যাকাশে ধোঁয়া উঠতে দেখায়।ভিডিওটি বুধবার ভোরে একটি গ্রুপে পোস্ট করা হয়েছিল।পরে রাশিয়ান মিডিয়া, সামরিক সংবাদ আউটলেট জাভেজদার টেলিগ্রাম চ্যানেল সহ অন্যান্য মাধ্যমে ঐ ভিডিওকে তুলে ধরে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এটি এমনই এক সময়ে ঘটলো বা অভিযোগ আনা হলো যখন ইউক্রেন পাল্টা আক্রমণের রণপ্রস্তুতী নিচ্ছিলো ক্রিমিয়া পূর্নদখল করতে।যে উদ্দেশ্যে ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমানে ফিনল্যান্ডে রয়েছেন এবং জার্মানি ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, কারণ তিনি কিয়েভের পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে আরও সামরিক সহায়তার জন্য তদবির করছেন৷ বিশ্লেষকদের মতে রাশিয়ার এই অভিযোগ অবশ্যই সামনের দিনগুলোতে ইউক্রেনে জোরদার হামলার ইঙ্গিত বহন করে। তথ্যসূত্র:-রয়টার্স ও আল জাজিরা।

