রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে কদর পালন করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিয়মিত এশার নামাজ এবং তারাবির নামাজের বাইরে মুসল্লিরা আদায় করেছেন শবে কদরের নফল নামাজ। ছিল বিশেষ ওয়াজ, মিলাদ, কিয়াম, জিকির, কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ পাঠ ও আখেরি মোনাজাত। শবে কদরের রাতে সব মসজিদে উপচেপড়া ভিড় ছিল। অনেকে রাতে কবরস্থানে গিয়ে প্রয়াত মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করে তাদের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করেন।
মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে শবে কদর অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। যা হাজার বছরের ইবাদতের চেয়ে উত্তম। এ রাতেই মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন নাজিল হয়। এ রাতকে কেন্দ্র করে কোরআন শরিফে ‘আল-কদর’ নামে একটি সূরা অবতীর্ণ করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহামান্বিত রাত শবে কদরের নামাজ আদায় করেন। তাই শবে কদরের রাতটি মুসলমানরা মহান আল্লাহপাকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও পুণ্য লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার করে অতিবাহিত করেন।
এ উপলক্ষে নগরীর আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ, জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ সহ প্রতিটি মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা ও বয়সের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন। রাতভর তারা জিকির-আজকারে মগ্ন ছিলেন।
মসজিদের পাশাপাশি বিভিন্ন দরগাহ, মাজার, পীর-আউলিয়ার আস্তানা, খানকাহ, দরবারেও ছিল ভক্তদের ভিড়। শুধু মসজিদ-খানকাহ-মাজার নয়, প্রতিটি ঘরে ঘরে শবে কদর পালিত হয় বিশেষ মর্যাদায়।
হাদিস অনুযায়ী, ২০ রমজানের পর যে কোনো বিজোড় রাতে শবে কদর হতে পারে। তবে আলেমদের অভিমত, ২৬ রমজান দিবাগত রাতেই শবে কদর আসে। শবে কদর আরবিতে লাইলাতুল কদর। এর অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুল’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। এ ছাড়া এর অন্য অর্থ হলো ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এ রাতে ইসলামের মহানবী মুহাম্মদ (স.) অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত।
৬১০ হিজরীতে শবে কদরের রাতে মক্কার নূর পর্বতের হেরা গুহায় ধ্যানরত অবস্থায় মহানবী (স.) এর নিকট কোরআন নাজিল হয়। কোনো কোনো মতে মহানবী (স.) এর নিকট প্রথম সূরা আলাক্বের প্রথম পাঁচটি আয়াত নাজিল হয়। অনেকের মতে এ রাতে ফেরেশতা জিব্রারাইল এর নিকট সম্পূর্ণ কোরআন অবতীর্ন হয় যা পরবর্তিতে ২৩ বছর ধরে হযরত মুহাম্মদ (স.) এর নিকট বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট আয়াত আকারে নাজিল করা হয়।
কোরআনের বর্ণনা অনুসারে, আল্লাহ এই রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই একটি মাত্র রজনীর উপাসনা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রæতি দেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ রাত সর্ম্পকে হাদিস শরীফে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। এমনকি পবিত্র কোরআনে সূরা ক্বদর নামে স্বতন্ত্র একটি পূর্ণ সুরা নাজিল হয়েছে। এই সুরায় শবে কদরের রাত্রিকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

