চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সাবেক ইউএনও রুহুল আমিনের স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের সেই অফিস সহকারী নাজিয়াকে কর্ণফুলী উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। একই সাথে কার্যসহকারী হাফিজুর রহমানকে বোয়ালখালী উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। যদিও এ ঘটনার তদন্তের কাজ এখনও চলছে।
হাটহাজারী উপজেলা রাজস্ব উদ্বৃত্ত (উপজেলা উন্নয়ন) ২০২০-২০২১ অর্থবছরে গড়দুয়ারা ইউপি এলাকায় ৪ লক্ষ ৯ হাজার ৪ শত ৯৪ টাকা বরাদ্দকৃত প্রকল্প ‘মেসার্স আব্দুল্লাহ ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ফাইল উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিনের স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনা উম্মোচন হওয়ায় উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে কে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
হাটহাজারী উপজেলা প্রকৌশলী জয়শ্রী দে বদলির বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদেরকে বদলি করা হয়েছে। সাবেক ইউএনও’র স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় তদন্ত কার্য এখনো শেষ হয়নি। তাই স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় বদলি এমনটা বলা যাবে না।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ আট বছরের বেশি সময় কর্মরত থাকা, দাপ্তরিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে (এলজিইডি) কয়েকবার চিঠি দেওয়ার পরেও এই নাজিয়া ও হাফিজুর রহমান বহাল তবিয়তে রয়ে যান। ওই চিঠিতে সাবেক ইউএনও রুহুল আমিন উল্লেখ করেন, হাটহাজারী প্রকৌশলী দপ্তরে স্বামী-স্ত্রী একসাথে কর্মরত থাকায় তারা উপজেলা উন্নয়ন কাজের বিভিন্ন বিল প্রদানের ক্ষেত্রে ঠিকাদার ও অন্যান্য বিল গ্রহণকারী নিকট হতে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করে থাকেন। ইতোমধ্যে তাদেরকে মৌখিকভাবে একাধিকবার সতর্ক করার পরেও তাদের আচরণ পরিবর্তন ঘটেনি। স্বামী-স্ত্রী একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন যাবত কর্মরত থাকায় তাদের মধ্যে প্রশাসনিক আদেশ অমান্য ও অনাগ্রহ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নাজিয়া ও হাফিজুর তাদের কারসাজিতে প্রকৌশলী দপ্তরটির কাজ চালাচ্ছি। এসব বিষয়ে সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন ওই স্বামী স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এলজিইডিতে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু কোনো সুরাহা মেলেনি। গত ২৯শে সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে সাবেক ইউএনও রুহুল আমিন এর স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হলে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

