পাওনা টাকা আদায়ের জন্য এক রিকশা চালককে শেকল বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা যায়, জনৈক মোহাম্মদ ফারুক রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। সিনেমা প্যালেস এলাকায় জাহাঙ্গীরের চা দোকানে চা খাওয়ার সুবাদে আসামী মনি মল্লিকের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে ১নং আসামী মনি মল্লিক তাকে ১০,০০০(দশ হাজার)টাকার মাছ ক্রয় করে সিনেমা প্যালেস এলাকায় ভ্যান গাড়ি করে মাছ বিক্রয় করতে দেয়। ফারুক পিতার কিডনিজনিত রোগের সংবাদ পেয়ে সে মাছ বিক্রয় শেষে বাবলুর গ্যারেজে ভ্যান গাড়ি রেখে তার গ্রামের বাড়ি তথা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ চলে যায়।

সে দীর্ঘদিন তার পিতার চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকায় ও গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করায় চট্টগ্রামে আসতে পারেনি। পরবর্তীতে ২ মার্চ চট্টগ্রামে আসেন।পরদিন রাত অনুমান ৮ টার সময় আসামী মনি মল্লিক ও প্রান্ত সিংহ হাজারী তাকে পাওনা টাকার বিষয়ে সমাধান করবে বলে বাকলিয়া থানাধীন বাস্তুহারা এলাকা হতে হাজারী গলিতে নিয়ে আসে। সেখানে আসার পর তারা ফারুককে টাকা পরিশোধ করতে বললে সে তাদেরকে তার পিতার অসুস্থতার কথা জানায় এবং প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার টাকা করে পরিশোধ করবে বলে জানায়। আসামীরা তাকে পুরো টাকা একসাথে দিতে বলে। মোহাম্মদ ফারুক টাকা একসাথে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামীদ্বয় তাকে কোতোয়ালী থানাধীন হাজারী লেইনস্থ শিব মন্দিরের পাশে গলির ভিতর রাস্তার উপর অবৈধভাবে আটক করে ঘটনাস্থলে থাকা একটি বাঁশের সিঁড়ির সাথে থাকা শিকল দিয়ে দুই পায়ে বেঁধে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে ৩নং আসামী রাজীব মল্লিক আসামাত্রই ১, ২ ও ৩নং আসামীগণ ফারুককে আটক করে এলোপাতাড়ী কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে ফুলা জখম করে এবং উক্ত স্থানে আটক করে রাখে। আসামীরা তাকে এই মূহূর্তের মধ্যে টাকা দেওয়ার কথা বলে অন্যথায় জানে মেরে ফেলার হুমকি ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
পরবর্তীতে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে এএসআই রুবেল বড়ুয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ ৪মার্চ সকাল ১০.১৫ টার সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে মোহাম্মদ ফারুককে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখে আসামীদের হেফাজত হতে উদ্ধার করে এবং কৌশলে আসামীদেরকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে মোহাম্মদ ফারুক আসামীদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করলে কোতোয়ালী থানার মামলা নং-০৯, তাং-০৪/০৩/২০২৩, ধারা-৩৪২/৩২৩/৩০৭/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ রুজু হয়।
গ্রেপ্তার তিন অভিযুক্ত হলেন১। মনি মল্লিক (২২), পিতা-রনধির মল্লিক, মাতা-রানু মল্লিক, সাং-ডাবুয়া, মল্লিক বাড়ী, থানা-রাউজান, জেলা-চট্টগ্রাম বর্তমানে-হাজারী লেইন, শিব মন্দিরের পিছনে, আর্শীবাদ বিল্ডিং, ৫ম তলা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম।২। প্রান্ত সিংহ হাজারী (২২), পিতা-মৃত যুবরাজ সিংহ হাজারী, মাতা-মিনু হাজারী, সাং-হাজারী বাড়ী, লোকনাথ মন্দিরের পিছনে, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম।৩। রাজীব মল্লিক (৩০), পিতা-রনধীর মল্লিক, মাতা-রানু মল্লিক, সাং-ডাবুয়া, মল্লিক বাড়ী, থানা-রাউজান, জেলা-চট্টগ্রাম বর্তমানে-আর্শীবাদ বিল্ডিং এর ৫ম তলা, শিব মন্দিরের পিছনে, হাজারী লেইন, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম।

