নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের কয়েক জন বাদ পড়া কর্মীকে লক্ষ্য করে বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন গুলি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রেস ক্লাবে এ ব্যাপারে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। নরসিংদী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের কর্মী মাইদুল নেহাল লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকায় গ্রামীণ হোটেলের সামনে ‘গুলিবর্ষণের’ এ ঘটনা ঘটে। এসময় পাঁচজন কর্মী আহত হন। আহতরা হলেন- পদবঞ্চিত ছাত্রদল কর্মী শুভ, সোহাগ, মাইনুল, ফাহিম ও মাহিম। তাদের মধ্যে তিনজন ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি খুবই ব্যস্ত, এখন কথা বলতে পারব না।’
সংবাদ সম্মেলনে গুলিবর্ষণের অভিযোগ করে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মাইদুল মিহাল বলেন, ‘শনিবার সকাল ১১টায় রায়পুরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে নেছার উদ্দিনের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য আমরা নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের আট-দশ জন নেতাকর্মী গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। ইটাখোলা মোড়ের কাছে গাড়ির গ্যাসের প্রয়োজন হলে আমরা থামাই। পথের মধ্যে ৪০-৫০ সশস্ত্র সন্ত্রাসী আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা গাড়ি থেকে নেমে প্রতিহত করার জন্য যাচ্ছি। এ অবস্থায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন ভাই আমাদের ওপর গুলিবর্ষণ করেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্যাতন সহ্য করে ছাত্রদল করছি। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে আমাদের আগলে রাখার কথা। কিন্তু তিনি নিজেই আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছেন। এর চেয়ে দুঃখের বিষয় আর কী আছে।’
এ ঘটনায় আহত ফাহিম ও মাহিম বিএনপি নেতা খোকনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান শিবপুর থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার। তিনি জানান, এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২৬ জানুয়ারি রাতে খায়রুল কবির খোকনের জেলা শহরের চিনিশপুর এলাকার বাসভবনে অবস্থিত জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদকে সভাপতি ও মেহেদী হাসান রিফাতকে সাধারণ সম্পাদক করে নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপরই পদবঞ্চিত নেতারা খায়রুল কবীর খোকনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন

